শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

মি টাইম কেন প্রয়োজন

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ১২:৩৮

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মি টাইম নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। বন্ধু, কর্মস্থল এসবের বাইরে নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়া জরুরি। সময়টি হবে একান্ত নিজের। ব্যস্ততা ভরা জীবনে নিজেকে সময় দেওয়া অনেক কঠিনই বটে। কাজটি সহজ করে তোলার হদিশ রইলো: 

মনকে গুরুত্ব দিন
নিজের মনকে গুরুত্ব দেওয়ার সময় কোথায়? কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য অনেক জরুরি। নিজেকে সময় দিলে সারাদিনের ক্লান্তি অনেকভাবে দূর হয়। অফিস বা কর্মস্থল কিংবা নিজের ব্যস্ততার বাইরে নিজের জগতে মনোনিবেশ করার জন্য হলেও একটা দিন রাখুন। অফডে পেলেই সেটাকে নিজের বানান। এই দিনটা আপনার। মাসে এক দিন হলেও চলবে।


নিজেকে বুঝুন
মি টাইম কাটালে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। নিজের জন্য সময় ব্যয় করে নিজেকে ভালোভাবে চেনার সুযোগ বাড়ে। নিজের দক্ষতা সম্পর্কে জানা যায়। আপনার অন্যদের সঙ্গে আচরণ কেমন, আপনি কীভাবে নিজেকে চেনেন তা বুঝতে পারলেই হলো। এটাই জরুরি। নিজেকে বুঝতে পারলে অনেক সম্পর্ক বা সমস্যার সমাধান হয়ে যায় নিমেষেই।

মনোযোগ বাড়ে
একটানা কাজ আপনাকে অনেক যন্ত্রণা দিতে পারে। মানসিকভাবে চিন্তামুক্ত হলে কাজে মনোনিবেশ করা সহজ হবে। কাজ করতে করতে ক্লান্ত লাগলে জোর করবেন না। বিরতি নিয়ে নিজেকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করুন।

কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষায়
ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সুইচিং থাকে। এই সুইচ করতেই হয়। তবে কাজটি সহজ নয়। ধ্যান বা মেডিটেশন এক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করে। কাজ ও নিজের ব্যক্তিজীবনে ভারসাম্য রক্ষা করতেই হয়। মি টাইমে আপনি নিজের পছন্দসই কোনো কাজ করুন। লেখালেখি, সৃজনশীল দক্ষতা বাড়ায় এমন কোনো কাজ করতে পারেন। তাহলে দেখবেন আপনার দক্ষতা বাড়বে। এখন প্রযুক্তিগত দক্ষতার দিকে মনোযোগ দেওয়া যায়। ডিজাইন, টাইপিং থেকে শুরু করে অনেক টেকনিক্যাল জ্ঞান অর্জন করতে পারলে ভালো। আপনি প্রয়োজনে খুঁজুন, দেখুন কিসে আপনার আগ্রহ। জানার মাধ্যমেও মস্তিষ্ককে অনেক সবল করে তোলা যায়। এই সবল করে তোলার প্রক্রিয়াও মি টাইমের অংশ।

সিদ্ধান্ত নিতে শিখুন
নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না? নির্ভর করেন অন্যের ওপর? মি টাইমে নিজেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতায় আনার চেষ্টা করুন। মি টাইম সবসময় আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করতে সাহায্য করে। আত্মনির্ভর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে শেখার ক্ষেত্রে মি টাইমের গুরুত্ব রয়েছে। বিষয়টি যদিও এখনো অনেকেই বুঝতে পারেন না। মি টাইম মূলত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমেই হয়। আপনি নিজেকে একদিন সময় দেবেন। সময়টি একান্তই আপনার।

নিজের সম্পর্কে সচেতন হওয়া
দিনের একটা অংশে নিজেকে সময় দেওয়ার অর্থ আপনি নিজেকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এটি আপনার ব্যক্তিত্বকে দৃঢ় করবে। মানুষ যখন দেখবে আপনার কাছে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তখন তারা আপনাকে সম্মান করবে। মি টাইম নিজেকে ভালোবাসতে ও সম্মান করতে শেখায়। তার মানে এই নয় যে আপনি সবাইকে এড়িয়ে চলবেন। স্বাভাবিক নিয়মে সব কাজের পাশাপাশি নিজেকে সময় দেওয়ার ফলে আপনি নিজের সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠতে পারবেন।

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন