শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ঈদ যাত্রা হোক নিরাপদ

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০৬:৩০

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সবখানেই বইছে পবিত্র ঈদুল আজহার আমেজ। ইতিমধ্যে দেশের বড় বড় শহর থেকে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। কর্মব্যস্ত জীবনে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার উপলক্ষ্য এনে দেয় ঈদ উত্সব। মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে এটা অনেকটা কমন ট্রেন্ড।

ঈদসহ নানা উত্সবের ছুটিতে আপন আঙিনায় ছুটে যাওয়ার আনন্দ সত্যিই এক অন্যরকম অনুভূতির। তবে ঈদে ঘরমুখী মানুষের বাড়ি ফেরার আনন্দ অনেক সময় রূপ নেয় সড়ক দুর্ঘটনায়। বাস, ট্রেন বা লঞ্চে যাত্রীদের হয়রানির মুখে পড়ার ঘটনাও ঈদ আনন্দের আমেজ অনেকটা ফিকে করে দেয়। প্রতি ঈদেই দেখা যায় রেলপথ, নৌপথ ও সড়কপথে দুর্ঘটনায় ঝরে যায় অনেক তাজা প্রাণ। নিভে যায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির জীবনপ্রদীপ। অথচ একটু সতর্ক, সাবধান হলেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু এড়ানো সম্ভব।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর পবিত্র ঈদুল ফিতরে যাতায়াতের সময় দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৯৮ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে রেলপথে ১৮টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ২১ জন আহত এবং নৌপথে দুইটি দুর্ঘটনায় সাত জন নিহত ও পাঁচ জন আহত হয়েছে; অর্থাত্, সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪১৯টি দুর্ঘটনায় সর্বমোট প্রাণ ঝরেছে ৪৩৮টি। এই সময়ে আহত হয়েছে ১ হাজার ৪২৪ জন। জানা যায়, গত বছরের চেয়ে এবার সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়েছে ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ। এই প্রবণতা অচিরেই বন্ধ হওয়া দরকার।

এমতাবস্থায়, এবারের ঈদুল আজহায় মানুষ যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। সড়ক-মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের অবাধ বিচরণ বন্ধ করতে হবে। পেশাদার চালকদের হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং থাকবে বলেই আশাবাদ। সড়কে চলাচলে ব্যক্তিসচেতনতার প্রতিও অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সর্বোপরি ঈদ যাত্রা নিরাপদ করার জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের আরো সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

 লেখক :শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন