সপ্তাহখানেক বন্ধ থাকার পর বিকল্প পথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৪টি ট্রলারে করে সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফে ফিরেছেন অন্তত আড়াইশ মানুষ। এদের মাঝে হোটেলকর্মী, শ্রমিক ও বিভিন্ন কাজে গিয়ে আটকা পড়া লোকজন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সেন্টমার্টিন জেটি ঘাট থেকে ট্রলার ৪টি টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে আড়াইটায় উপকূলে পৌঁছে।
সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলারে টেকনাফ আসা কেফায়েত উল্লাহ বলেন, ‘জীবন নিয়ে ফিরে এসেছি। বঙ্গোপসাগরের বড় বড় ঢেউয়ে চরম জীবনের ঝুঁকি অতিক্রম করেছি।’
তিনি অনুরোধ করে বলেন, ‘ট্রলারে বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে কারও টেকনাফে আসা উচিত হবে না। প্রয়োজনে দ্বীপে না খেয়ে মরলেও ভালো। একটু উনিশ-বিশ হলেই ট্রলার মাঝ সাগরে ডুবে সলিল সমাধি হতে পারে।’
অন্যদিকে মিয়ানমারের রাখাইনের নাফ নদী সীমান্তে গোলাগুলি অব্যাহত থাকায় জেলা প্রশাসনের খাদ্যসামগ্রী বহনকারী নৌযান সেন্টমার্টিন যেতে পারেনি। এসব কারণে উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছেন সেন্টমার্টিনবাসী। এমনটিই জানিয়েছেন দ্বীপ ইউনিয়নটির চেয়রাম্যান মুজিবুর রহমান।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আদনান চৌধুরী জানান, চারটি ট্রলার আটকা পড়া লোকজন নিয়ে রওনা হয়। ট্রলারগুলো মূলত বঙ্গোপসাগর হয়ে টেকনাফে পৌঁছেছে।
তিনি আরও জানান, খাদ্যসামগ্রী নিয়ে টেকনাফ থেকে যে নৌযান সেন্টমার্টিন যাওয়ার কথা ছিল, সেটি যেতে পারেনি। বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার নাফ নদীর সাবরাংয়ের বিপরীতে রাখাইনের একটি এলাকায় ব্যাপক গোলার শব্দ শোনা যায়। বিকল্প পথে হয়তো আগামীকাল (শুক্রবার) কক্সবাজার থেকে এই খাদ্যসামগ্রী পৌঁছাতে পারে।
