নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা

পাথরঘাটায় এক জেলেকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৪, ১২:৪৪

বরগুনা পাথরঘাটায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জেরে শহিদুল ইসলাম হাওলাদার (৬৫) নামে এক জেলেকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যানের লোকজনের বিরুদ্ধে।

শনিবার (৬ জুলাই) রাত দুইটার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহিদুল ইসলামের মৃত্যু হয়।

এর আগে রাত সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার চরদুয়ানি ইউনিয়নের জ্ঞানপাড়া এলাকার একচল্লিশ ঘর নামক স্থানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

রোববার (৭ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন।

শহিদুল ইসলাম হাওলাদার একই এলাকার মৃত বাহার আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে।

শহিদুলের স্ত্রী আমেনা বেগম জানান, রাত দশটার দিকে জ্ঞানপাড়ার বান্দাঘাটা এলাকায় মহাজন বনি আমিনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে বাড়িতে আসার পথে নাসির বিশ্বাস, রুবেল বিশ্বাস ও আব্বাস মল্লিক সহ ৫ থেকে ৬ জন তাকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।

পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাশিদা তানজুম হেনা জানান, রাত দেড়টার দিকে শহিদুল নামে এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার শরীরে প্রায় বিশটির মতো ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এছাড়া পায়ের রগ কাটা ছিল। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় রাত দুইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদ্য শেষ হওয়া উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরদুয়ানি ইউনিয়নের দক্ষিণ চরদুয়ানি, একচল্লিশ ঘর, বান্দাঘাটা ও জ্ঞানপাড়া এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যে শহিদুল হত্যার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

শহিদুলের ছোট ভাই নাসির হাওলাদার জানান, পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এনামুল হোসাইন এর নির্দেশে জাকির বিশ্বাস, নাসির বিশ্বাস, রুবেল বিশ্বাস, সোবহান বিশ্বাস, মুসা, ইসা, সোহেল বিশ্বাস, সোহেল, বাবু, আবুল, আলাউদ্দিন, আরাফাত সহ বেশ কয়েকজন মিলে কয়েকদিন আগে শহিদুলের মেয়ে তানিয়ার ঘরে আগুন দেয় বলে দাবি করেন তিনি।

পরবর্তীতে এ নিয়ে পাথরঘাটা থানায় মামলা করলে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এনামুলের লোকজন তার ওপরে হামলা করে বাম হাত ভেঙে দেয়। পরে তার ওপর হামলার ঘটনায় আবারও থানায় মামলা করলে তার বড় ভাই শহিদুলের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জানতে চাইলে পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান এনামুল হোসাইন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।’

জানতে চাইলে পাথরঘাটা থানার ওসি আল মামুন এ বিষয়ে জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শহিদুল কর্তৃক পূর্বেই মামলা রয়েছে। বর্তমানে মামলা চলমান আছে। এছাড়া হত্যায় জড়িতদের আটক করতে রাত থেকেই অভিযান চলছে। শহিদুলের মরদেহ উদ্ধার করে পাথরঘাটা থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরা জানান, দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশকে বলেছেন বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/আরডি