বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) পরীক্ষাসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নাম জড়িয়েছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার দুই সহোদরের। তারা হলেন উপজেলার ইচাইল গ্রামের সাহেদ আলীর ছেলে সাখাওয়াত হোসেন ও সাইম হোসেন।
জানা যায়, সাখাওয়াত হোসেন ও সাইম হোসেন ১০ বছর আগে অভাবের তাড়নায় গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় আসেন। গ্রামে দুই ভাইব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অ্যাসিড–পানির ব্যবসা করতেন। পরে ঢাকায় এসে পানির ফিল্টারের ব্যবসা শুরু করেন। এখন ঢাকায় একটি ফ্লাট বাড়ি করছেন সাখাওয়াত। ময়মনসিংহের বাইপাসে জমি রয়েছে তার। একবছর আগে একটি প্রাইভেট কার কিনেছেন। রেখেছেন ড্রাইভারও। পানির ফিল্টারের ব্যবসা করে তার গাড়ি-বাড়ি কেনার ঘটনায় এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাখাওয়াত ও সাইমের বাবার ভিটাতে এখনো একটি পুরোনো আধাপাকা ঘর আছে। সেটির বারান্দার প্লাস্টারও সম্পন্ন হয়নি।
সাখাওয়াতের চাচি জমিলা খাতুন জানান, সাখাওয়াত ছোটকাল থেকে মতিঝিলে পানির ব্যবসা করে সংসার চালান। বাড়ীতে কোন সম্পত্তি নেই তাদের। এই ব্যবসা করেই ভাইবোনদের মানুষ করছে। একবছর আগে একটি প্রাইভেট কার কিনেছেন তিনি। নিয়মিত বিভিন্ন দেশেও ভ্রমণ করেন। আমাদেরকে জানান ব্যবসার কাজে বিদেশে যেতে হয় তার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাখাওয়াতের এক বন্ধু জানান, এক সময় সাখাওয়াতের পরিবার কষ্ট করে জীবনযাপন করেছে। হঠাৎ আর্থিক অবস্থার এত পরিবর্তন কিভাবে হলো তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ ছিল। এখন পরিষ্কার হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিসিএসসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা আলোচনায় আসার পর গত ৮ জুলাই রাতে সিআইডির পক্ষ থেকে রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলায় ৩১ জনের আসামির নাম উল্লেখ করে অর্ধশতাধিক অজ্ঞাতনামে আসামি করা হয়েছে।
