স্থানীয়দের বাধার মুখে ভেস্তে যাচ্ছে একশ কোটির টাকার প্রকল্প 

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৪, ১৬:৪১

নীলফামারীর জলঢাকা ও ডিমলা উপজেলায় অবস্থিত একশ কোটির টাকার বুড়িতিস্তা জলাধার পুনঃখনন প্রকল্পটি স্থানীয়দের বাধার মুখে স্থবির হয়ে পড়েছে। এই প্রকল্পটি এ অঞ্চলের কৃষিখাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও কয়েক দফা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খনন কাজ করতে গেলেও স্থানীয়দের বাধায় তা বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় স্থানীয় দখলদাররা ঠিকাদার নিযুক্ত কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে ঠিকাদারি কাজের সরঞ্জামাদি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে।

এ ঘটনায় নীলফামারীর কয়েকটি থানায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জলঢাকা সাব-ডিভিশনের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জুলফিকার রহমান জানান, প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে জলাধারের পানি ব্যবহার করে সাড়ে ৫ হাজার একর জমিতে সেচের সুবিধা পাওয়া যাবে। এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদিত হবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭২ কোটি টাকা। এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন বাবদ প্রতিবছর প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

স্থানীয় অবৈধ দখলদারদের দাবি, তিন ফসলী (বছরে) জমিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক কৃষকরা বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। বুড়িতিস্তা জনগোষ্ঠী কৃষক সমিতির সদস্য সাজু মিয়া মোতালেব এবং দীপক কুমার বলেন, তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় বসবাস করলেও সেচ প্রকল্পের বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, প্রকল্পটি চালু হলে প্রান্তিক কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা নীলফামারী জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জানা যায়, ষাটের দশকে তৎকালীন সরকার বুড়িতিস্তা সেচ প্রকল্পটি তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের মডেল হিসেবে গ্রহণ করে। ১৯৬৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটি চালু ছিল। ২০১০ সালে মৎস্য চাষের জন্য জলাধারটি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ইজারা প্রদান করা হয়। এতে ঢাকার তুসুকারি সোর্সেস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি ইজারা পায়। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা এতে বঞ্চিত হন এবং হাইকোর্টে রিট করলে হাইকোর্ট ইজারা কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেন। এর প্রেক্ষিতে সেচ প্রকল্পটিও বন্ধ হয়ে যায়। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে এবং পলি জমে জলাধারটির তলদেশ ভরাট হওয়ায় পানিধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। প্রকল্পটি পুনরায় চালুর জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি পুরোদমে চালু হলে পরিবেশের উন্নয়ন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বৃদ্ধি এবং মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বাড়বে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।

ইত্তেফাক/টিএইচ