বন্যার্তদের পাশে মাস্তুল ফাউন্ডেশন 

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৪, ২২:০৮

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত ফেনী জেলার পশুরাম উপজেলাসহ বন্যাকবলিত আরও ৫ টি জেলায় মাস্তুল ফাউন্ডেশন মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩.৫ হাজার মানুষকে সেনাবাহিনির সহযোগীতায় উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করেছে এবং উদ্ধারকৃত মানুষদের মধ্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও গর্ভবতী মহিলাদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে। 

আগামী দিনের পরিকল্পনা হিসাবে লক্ষাধিক পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে ফাউন্ডেশনের আরেকটি দল আগামী বুধবার ৬০০০ পরিবারের জন্য চাল, ডাল, তেল, বিস্কুট, মুড়ি, গুড় সাবান পানি সহ বিভিন্ন জরুরি খাদ্যদ্রব্য নিয়ে ফেনী যাত্রা করবে। এ পর্যন্ত ২৫০০ পরিবার এর কাছে শুকনো খাবার ও রান্না খাবার  পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। 
  
উদ্ধারকৃত অনেকেই বলেন, মাস্তুল ফাউন্ডেশনের এই মানবিক উদ্যোগ বন্যা কবলিত মানুষের জন্য আশার আলো জ্বালিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত, টিউবওয়েল মেরামত, স্বাস্থ্য সহায়তা এবং সাবলম্বীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, মাস্তুল ফাউন্ডেশন বহুমুখী সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নিজস্ব স্কুল, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও বৃদ্ধআশ্রম যেখানে শতাধিক পিতামাতাহীন অনাথ/এতিম শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধ- বৃদ্ধা বসবাস করেন। এর বাহিরে কয়েক জেলায় প্রজেক্ট স্কুলগুলোতে হাজারের অধিক সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সকল শিক্ষার উপকরণ দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পুষ্টিকর খাবার, শিশু অধিকার, মৌলিক চাহিদা নিশ্চয়তা করা হচ্ছে। 

এ ছাড়া চিকিৎসা খাতে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে ‘মাস্তুল এইড’ প্রকল্পের মাধ্যমে অর্ধশতাধিকের অধিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অসচ্ছল পঙ্গুত্ববরণকারী রোগীদের চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি হুইলচেয়ার ও কৃত্রিম পা দিয়ে সাবলম্বী করছে। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের রয়েছে সেলাই প্রশিক্ষন কেন্দ্র, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম করে তোলা হচ্ছে। এর বাইরে যাকাত স্বাবলম্বী প্রজেক্টের মাধ্যমে ১০০০ জনের বেশি মানুষকে স্বাবলম্বী করা হয়েছে। মাস্তুলের প্রধান কাজের মধ্যে রয়েছে দাফন-কাফন সেবা প্রজেক্ট, যার মাধ্যমে করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩০০০ এর অধিক লাশ দাফন হয়েছে। রয়েছে মাস্তুল মেহমানখানা, যেখান থেকে শতাধিক অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষের একবেলা পেট পুড়ে খাওয়ার ব্যবস্থা হয়।

ইত্তেফাক/পিও