নাটোরের বড়াইগ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় চান্দাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতির বাড়িসহ ৯টি বাড়ি, ৫টি মোটর সাইকেল এবং ২৬টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের দাসগ্রাম বাজার ও রাজেন্দ্রপুর কুদুর মোড়ে এসব ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা বিএনপি।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধরা হলেন, রাজেন্দ্রপুর গ্রামের শহীদুল ইসলাম মালিথা (৩৮), সাগর আলী (২০), মামুন হোসেন (২১), জাহিদ আলী (১৮), মশিউর রহমান (২৮) ও দাসগ্রামের রবিউল করিম(৩৯)। এছাড়া সংঘর্ষে দাসগ্রামের মেহেদী হাসান (২৮), শাহ আজিজ (৪০), লিটন (৩৮) ও আওয়ামীলীগ কর্মী শাহিন মালিথা (৬০) আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শহীদুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যদের বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল টিপু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। রোববার সন্ধ্যায় চান্দাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল টিপুর অনুসারীরা দাসগ্রাম বাজারে সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের অফিস ভাঙচুর করে। পরে খবর পেয়ে হাবিবুর রহমান শতাধিক লোক নিয়ে বাজারে এসে গুলি চালানোসহ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে টিপুর লোকজন পালিয়ে যায়। পরে হাবিবুরের অনুসারীরা দাসগ্রাম বাজার ও রাজেন্দ্রপুর কুদুর মোড়ে মোট ২৬টি দোকানসহ আব্দুল আউয়াল টিপু, সাইদুল ইসলাম, সালেক আলী, মৃদুল, ইউনুস আলী, আনিসুর রহমান, আব্দুল হান্নান, নুর নবী, খায়রুল ইসলাম এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি জহুরুল মালিথার বাড়ি ঘরে ভাঙচুর করে।
তবে সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আব্দুল আউয়াল টিপু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিকালে বিনা উস্কানিতে দাসগ্রাম বাজারে আমার দোকান ঘর ও অফিস এবং যুবদলের কার্যালয় ভাঙচুর করে। পরে খবর পেয়ে আমার সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সেখানে গেলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় সেখানে কিছু ঘটনা ঘটলেও গোলাগুলি ও লুটপাটের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান বলেন, আহতদের মধ্যে দুজনের শরীর থেকে অপারেশন করে গুলি বের করা হয়েছে। অন্য চারজনের শরীরে রাবার বুলেটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সরল মুরমু বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
