কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত যমুনা নদীভাঙন শুরু হলেও কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না মাদারগঞ্জের পাকুরুল গ্রামের ভাঙন।
ভাঙনে শত শত বিঘা ফসলি জমি, ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি, মসজিদ, সরকারি প্রাথমিক স্কুল, প্রাচীন গোরস্থান, বৃক্ষরাজি, মানুষজনের সাজানো সংসার সবকিছুই এখন নদীগর্ভে।
মাদারগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে পাকরুল গ্রামটি। তীব্রভাঙনের শিকার হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়সারা গোছের কাজ শুধুই অপচয় বলছে গ্রামবাসী, টেকসই ব্যাবস্থা না নিয়ে তীব্র স্রোতে ভাঙন ঠেকাতে কোটি টাকার জিও ব্যাগ ফেলা বিষয়টিকে হাস্যকর বলছে অনেকে।
পাকরুল গ্রামের বাসিন্দা আহাজ উদ্দিনসহ অনেকে জানান, গত একমাসে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে শতশত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তেমনি ১২শ বিঘা ফসলি জমি হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব। মাথার ওপর চাল যেমন নেই তেমনি হাঁড়িতেও চাল উঠে না। গত কয়েক দিনে আরো তীব্র হয়েছে নদীভাঙন অনেক
পরিবারের।
নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শত শত বাড়িঘর, কমিউনিটি ক্লিনিক, রেড ক্রিসেন্ট কমিউনিটি মিটিং সেন্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তীব্র ভাঙনের শব্দে তাদের রাতের ঘুম নেই, সারারাত ঘুমহীন রাত কাটে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় তাদের চৌদ্দ পুরুষের জমি জিরাত চলে যাচ্ছে যমুনার গর্ভে। মাথাগুঁজার ঠাই হারিয়ে কেও খোলামাঠে, কেও অন্যের বাড়ি অথবা কেও কেও এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন জীবিকার সন্ধানে।
মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুল আলম জানান, পাকরুল গ্রামের নদীভাঙনে ইতোমধ্যে ৩ শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা জমিজমা বাড়িঘর হারিয়ে এখন নিঃস্ব। সরকারিভাবে ভাঙন ঠেকানোর কিছু ব্যাবস্থা করেছে। ভাঙনকবলিত মানুষের জন্য প্রাথমিকভাবে কিছু সাহায্যে সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে তিনি দাবী করেন, নদী ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যাবস্থার না হলে পাকরুল গ্রাম ছাড়াও অন্য এলাকায় ভাঙন শুরু হবে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, পাকরুলের নদীভাঙন রোধে ১৫শ মিটার স্থায়ী ব্যাবস্থার প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করা আছে। প্রস্তাবনাটি অনুমোদন হলেই কাজ করা হবে।
তিন আরও জানান, ভাঙন ঠেকাতে প্রাথমিকভাবে গত বছর ১০ হাজার ৪শ ৭০টি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। সম্প্রতি ১২ হাজার ২শটি জিও ব্যাগ ফেলা হয়।
