ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে জাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৪, ১৮:৩৬

গণঅভ্যুত্থানের সৈনিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার অবিলম্বে বিচার ও ছাত্রলীগকে দেশ থেকে নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকাল পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক থেকে বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে একটি মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি কয়েকটি সড়ক ঘুরে মিছিল শুরুর স্থানে গিয়ে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা অতিদ্রুত ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যায় জড়িতদের অতিদ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান।

সমাবেশে বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখার সমন্বয়ক মেহরাব সিফাতের সঞ্চালনায় আরেক সমন্বয়ক তৌহিদ সিয়াম বলেন, ‘গত মধ্য জুলাই থেকে যে গণহত্যা করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার এখনো পর্যন্ত তার দৃশ্যমান কোনো বিচার করতে পারেনি। ফ্যাসিস্টের দোসররা এখনো তাদের ফ্যাসিস্ট স্লোগান দিয়ে তাদের ফ্যাসিস্ট সরকারকে ফেরানোর চেষ্টা করছে। সরকারকে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে না হলে গণঅভ্যুত্থান ব্যাহত হয়ে যাবে। এই দেশে আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। কারণ তারা গণহত্যা করেছে। তাদের বিচার কার্যকর করা হলে তারা এমনিতেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। যারা ষোল বছর ধরে  ফ্যাসিস্টদের সহায়তা করেছে তাদেরকেও নিষিদ্ধ করতে হবে।’

বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আরিফ সোহেল বলেন, ‘ছাত্রলীগ সরকারি ও রাষ্ট্রীয় পেটুয়া বাহিনী দিয়ে গুলি করে হাজারের উপরের মানুষকে হত্যা করেছে। যার ইন্ধন দিয়েছে আওয়ামীলীগ,যুবলীগসহ ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন। ছাত্রলীগ এখনো আমাদের সহযোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ করছে। এটি কোনো বিক্ষিপ্ত ঘটনা নয় বরং তাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। যে সংগঠন সাংগঠনিকভাবে সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মানুষ হত্যা করতে পারে তারা একটি শক্তিশালী সংগঠন ছাড়া আর কিছুই নয়। ছাত্রলীগকে আইন করে বাংলাদেশ ঘেকে নিষিদ্ধ করতে  হবে। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগ গুপ্ত রাজনীতি করা শুরু করেছে। তারা গুজব ছড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চক্রান্ত করছে। তারা বাংলাদেশের বিলিয়ন বিলিয়ন লুটপাট করেছে। সেই অর্থ খরচ করো তারা তাদের সাংগঠনিক পরিচয় গোপন করে গণঅভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। এই গুপ্ত রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। রাজনীতি যদি করতে হয় তাহলে প্রকাশ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তি করে করতে হবে।’

ইত্তেফাক/এআই