আশুলিয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ শ্রমিকদের

৩০ ঘণ্টা যান-চলাচল বন্ধ

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৪, ২১:১৩

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়াসহ তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে টানা ৩০ ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে শ্রমিকরা। সোমবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) পর্যন্ত চলা এ অবরোধের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল, বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কে যান-চলাচল। আর এর প্রভাব পড়ছে ঢাকা আরিচা মহাসড়কেও। ফলে এ সব মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।

এদিকে শুরু থেকেই শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করলেও শ্রমিকরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকে। পরে শিল্প পুলিশ ও সেনার সদস্যরা তাদের ওপর জল কামান নিক্ষেপ করলে বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ছেড়ে সরে যান শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করেছেন তারা।

পুলিশ, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগে মধ্য দিয়ে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। এরপরই আশুলিয়ার ইয়ারপুর এলাকায় ভারতীয় মালিকানাধীন জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন লিমিটেড নামে তৈরি পোশাক কারখানার শীর্ষ কর্মকর্তারা একে একে নিজ দেশে চলে যান। এরপর আর্থিক টানা-পোড়েন ও রপ্তানি আদেশ কমতে থাকায় সংকটে পড়ে কারখানাটি। অনিয়মিত হয়ে পড়ে বেতন-ভাতা।

বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে কারখানার সামনে জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা অবস্থান নেন বাইপাইল পয়েন্টে। রাত ১১টা পর্যন্ত টানা অবরোধ শেষে শ্রমিকরা ফিরে যান। মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো দাবি আদায় শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেয়।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, তিন মাস ধরে কোনো বেতন-বোনাস পাননি তারা। এদিকে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ে কয়েকবার মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। বার বার আশ্বাস দিলেও তারা বেতন পরিশোধ করেননি। স্টাফদের বেতন বকেয়া আছে চার থেকে পাঁচ মাসের। এরপর বিজিএমইএ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ে গেলে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কারখানা খুলে দেয়নি, বেতন ও বোনাস পরিশোধ করেনি মালিকপক্ষ। তাই বাধ্য হয়ে মহাসড়কে এসেছেন তারা। বেতন না পাওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলতে থাকবে বলেও জানান শ্রমিকরা।

এদিকে, বাইপাইল ত্রিমোড়ে অবরোধ করে রাখায় ঢাকামুখী ও উত্তরবঙ্গমুখী লেনে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। তবে স্থানীয় রিকশা-অটোরিকশা বাইপাইল থেকে চন্দ্রাগামী লেনে চলাচল করতে পারছে। এ কারণে রিকশা-অটোরিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এছাড়া বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কও বাইপাইলমুখী লেন বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ওই দুটি সড়ক-মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত যাত্রীদের। কেউ কেউ আবার আঞ্চলিক সড়ক ব্যবহার করে গন্তব্যস্থলে যাচ্ছেন।

আশুলিয়া শিল্প-পুলিশ-১ এর এসপি মো. সারোয়ার আলম বলেন, শ্রমিকদের কয়েক মাসের বেতন পরিশোধ না করে জেনারেশন নেক্সট কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কারখানা বন্ধ রেখেছেন। আমরা বিজিএমইএ, কলকারখানা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের তাগিদ দিয়েছি। বেতন পরিশোধ না করায় শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে কারখানাসংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি জানান, কারখানাটির প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। কারখানার চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম এখন পলাতক। কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব শেট্টি ভারতীয় নাগরিক। তিনি দেশে ফিরে গেছেন। ফলে বিষয়টি এখনও সমাধান হয়নি। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি