প্রায় দেড় যুগ আগের চাহিদা অনুযায়ী সিলেটের ফিলিং স্টেশনগুলো চলছে। কিন্তু বর্তমানে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে গ্যাসের চাহিদা। কিন্তু বাড়েনি গ্যাস বরাদ্দের পরিমাণ। তাই মাস শেষ হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যায় গ্যাস বরাদ্দের লিমিট। এতে বন্ধ হয়ে যায় সিলেটের অর্ধেকের বেশী ফিলিং ষ্টেশন। বিপাকে পড়েন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, একেকটি ফিলিং ষ্টেশনের মাসিক চাহিদা দেড় লাখ কিউবিক মিটার। কিন্তু তাদেরকে দেয়া হয় মাত্র সোয়া লাখ কিউকিব মিটার। এর ওপরে গ্যাস বিক্রয় করা আইনত নিষেধ।
তিনি জানান, সিলেট বিভাগে মেট ৫৪ টি ফিলিং ষ্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১৯ টি। স্থানীয় চাহিদা মত গ্যাস ফিলিং স্টেশনগুলোতে বরাদ্দ না দেয়া মাসের ২০ দিনের মাথায় অনেক ফিলিং ষ্টেশন বন্ধ হয়ে পড়ে। তখন অন্যান্য ফিলিং ষ্টেশনে চাপ বাড়ে। এভাবেই প্রতি মাসের ২০ বা ২২ তারিখের পর ফিলিং ষ্টেশন একে একে বন্ধ হয়ে পড়ে।
এদিকে ‘ফিলং ষ্টেশনগুলোতে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য জালালাবাদ গ্যাসের বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে, বৈঠকও করা হয়েছে। কিন্তু জাতীয় সংকটের দোহাই দিয়ে তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না’, বলে জানান জুবায়ের আহমদ।
তিনি বলেন, ‘দেশের প্রায় ৭০ ভাগ গ্যাস সিলেট থেকে গ্রিডে সংযোজন হচ্ছে। কিন্তু সিলেটে গ্যাস সংকটে সিএনজি পা¤পগুলো বন্ধ থাকবে-এটা দুঃখজনক।’ তিনি পাম্পগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
সিলেট নগরীর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনের মাস শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই গ্যাসের বরাদ্দ শেষ হয়ে গেলে বন্ধ করে দিতে হয় ফিলিং ষ্টেশনগুলোকে। এতে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত যেসব ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ থাকে, সেগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে। এর ফলে এলাকার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। সড়কে লাইন পড়ে প্রায় ১ কি.মিটার। তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
চালকদের বক্তব্য, সারাদিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ করা যায়। এতে চালকদের সাথে ফিলিং স্টেশন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হয়।
ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, ২০০৭ সাল থেকে সিলেটে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে পরিবহনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। বর্তমানে সিলেট বিভাগে রয়েছে অর্ধশতাধিক ফিলিং স্টেশন। গত এক দশক ধরে নতুন কোনো সিএনজি ফিলিং স্টেশনের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। একই সাথে চলমান ফিলিং স্টেশনগুলোর বরাদ্দের পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে না। এ নিয়ে গ্যাস বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার লিখিত ও মৌখিক আবেদন করেও সুরাহা পাননি তারা। দিন দিন যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উল্টো সংকট তীব্র হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিকরা কঠোর আন্দোলনে যাবেন বলে কেউ কেউ জানালেন।
ফিলিং স্টেশনের মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের তুলনায় বর্তমানে সড়কে গাড়ি বেড়েছে চারগুণ। কিন্তু গ্যাস বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি। যে কারণে ফিলিং স্টেশনের মালিকরা প্রতি মাসের শেষ ১০ দিন গ্যাস সংকটে পড়েন। জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ প্রতি ফিলিং স্টেশনের জন্য লোড নির্ধারণ করে দিয়েছে। এর বাইরে যেসব পাম্প গ্যাস বিক্রি করেন তাদের জরিমানার মুখে পড়তে হয়।

