রাজধানীর পুরান ঢাকায় হঠাৎ দেখা দিয়েছে পানি সংকট। এর মধ্যে হাজারীবাগ, লালবাগ, নিউ পল্টনের কয়েকটি এলাকায় পানি সংকট একটু বেশি। তবে কিছু জায়গায় এই সমস্যার সমাধান হলেও এখনও অনেক জায়গায় পানির সংকটে ভুগছেন নগরীর বাসিন্দারা।
তবে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজধানীতে কোথাও পানির সংকট নেই। এলাকাভিত্তিক সাময়িক সমস্যা হতে পারে। সেটাও ১০- ১৫ দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, হাজারীবাগ, আজিমপুর আশপাশের কিছু এলাকায় ওয়াসার পানির সমস্যা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াসার গ্রাহকেরা পানির সমস্যার অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় পানির পাম্পগুলোতে জোড়ো হতে দেখা গেছে।
হাজারীবাগ এলাকার এক বাসিন্দা শাহদাত আহমেদ রোহান ইত্তেফাককে জানান, গত ১০ দিন ধরে পানির সমস্যা সহ্য করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মোহাম্মদপুরে আত্মীয়দের বাসায় যেয়ে গোসল করে আসতে হচ্ছে।
ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-২–এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী রোকেয়া বেগম ইত্তেফাককে জানান, ‘হাজারীবাগ, লালবাগসহ কিছু এলাকায় ওয়াসার পানির উত্তোলনের পরিমাণ বৃদ্ধিতে পাম্পগুলোতে কাজ চলছে, তবে কিছুটা পানির সরবরাহ গতি কম। কিন্তু পানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।’
এদিকে, লালবাগ এলাকার আয়েশা আফিফা নামের একজন বাসিন্দা ওয়াসার পানির সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে পানি পাচ্ছি না বাসায়। প্রতিদিনই এলাকার পানির পাম্প (বিজিবি- ২) গিয়ে অভিযোগ দিয়ে আসি পানি পাচ্ছি না এই বলে। কিন্তু কোন সমাধান পাচ্ছি না। পাম্পে অভিযোগ নিয়ে গেলে জানায়- এই সমস্যা কবে ঠিক হবে পাম্পের লোকও জানে না।
অন্যদিকে পানির সংকট নিরসনে কেউ কেউ ওয়াসার পানির লরির জন্য ডিমান্ড দিলে পানির গাড়ি একদিন পরে আসছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। আবার পানির পরিমাণভেদে নির্দিষ্ট টাকা চার্জ করলেও পানি বহনকারী গাড়ির কর্মচারীরা অতিরিক্ত টাকা দাবী করে এমনও অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-২–এর (আঞ্চলিক কার্যালয়) আওতাধীন এই জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, ‘এমন সমস্যার অভিযোগ এখনও পর্যন্ত আমার কাছে আসেনি, এখনই জানতে পারলাম। বিষয়টি আমি সরেজমিনে খবর নিচ্ছি।’