গাইবান্ধা সদর উপজেলায় কুলখানি অনুষ্ঠানের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। এ অবস্থায় গাইবান্ধার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অনেকেই। হাসপাতালের বেডে জায়গা না হওয়ায় মেঝেতে চলছে অনেকের চিকিৎসা।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল পর্যন্ত প্রায় ২০০ রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দুইজনকে পাঠানো হয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী রিফাইতপুর গ্রামের ইজিবাইক চালক বেলালের মায়ের চল্লিশা (কুলখানি) ছিল। ওই দাওয়াতে ভাত, গরুর মাংস ও আটার ডাল খাওয়ানো হয়। সেখানে এলাকাবাসীসহ প্রায় এক হাজার মানুষ অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানের খাবার খাওয়ার পর ওইদিন মধ্যরাত থেকে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেকেই প্রাথমিকভাবে বাড়িতে চিকিৎসা নিলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন সোমবার সকাল থেকেই হাসপাতালে ভর্তি হতে থাকেন। অসুস্থ হওয়া রোগীরা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল, পার্শ্ববর্তী ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং অনেকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের মেঝেতে চিকিৎসাধীন আব্দুল হাই জানান, দাওয়াত খাওয়ার পর দিবাগত মাঝরাত থেকে আমাদের স্বামী-স্ত্রী দুইজনের ডায়রিয়া শুরু হয়। আমাদের আরও অনেক আত্মীয়ও এখানে চিকিৎসাধীন আছেন।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ আরিফা খানম জানান, গত সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত পর্যন্ত হাসপাতালে ১২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ৫১ জন রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। খাদ্যের বিষক্রিয়ায় কারণে তারা অসুস্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ রফিকুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত ৬৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। আমরা স্বল্প জনবল দিয়ে তাদের সাধ্যমত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দুইজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

