ছাত্রদল-শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

কুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত, তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৭:৩৩

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাছাড়া ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার  (১৯ ফেব্রুয়ারি) অনলাইনে সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিন্ডিকেট সভার এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন কুয়েটের প্রোভিসি প্রফেসর ড. এস কে শরিফুল আলম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ কমিটিকে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে কুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম এম এ হাসেমকে। কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ছাত্র বল্যাণ) শাহ মুহাম্মদ আজমত উল্লাহ।

তাছাড়া দুইজন সদস্য হলেন শহীদ স্মৃতি হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আবু ইউসুফ ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবু জাকির মোর্শেদ।

কুয়েট সূত্র জানায়, জরুরি সিন্ডিকেট সভায় গত বছরের ১১ আগস্ট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল, বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী সকল শিক্ষক ও কর্মচারীকে সকল ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধকরণ, আইন অমান্যকারীদের চাকরিচ্যুতসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং রাজনীতির সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের আজীবন বহিস্কার ও ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এছাড়া সভায় সংঘর্ষে আহত সকল শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মাছুদ।

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে উপাচার্যের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবিতে কুয়েটের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। কুয়েট উপাচার্য এখনও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সকাল থেকেই অনেক শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করতে শুরু করেছে। ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে যারা ভাড়া রয়েছেন তাদের ভেতর ভয় এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) মো. নাজমুল হাসান রাজীব জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। তবে এখনও কোনো মামলা হয়নি। ক্যাম্পাসের গেটে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে, কুয়েটে সংঘষের ঘটনায় জড়িত থাকায় দৌলতপুর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি।

উল্লেখ্য, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি নিয়ে বিরোধের জের ধরে  মঙ্গলবার কুয়েটে ছাত্রদলের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ইত্তেফাক/এপি