রাশিয়ার এই কারাগারে রয়েছে পাঁচ তারকা হোটেলের সব সুবিধা  

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৫, ১৪:০০

কারাগার মানেই কঠোর নিরাপত্তা ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার এক ভয়াবহ পরিবেশ। কিন্তু রাশিয়ার ক্রেস্টি-টু কারাগার এই ধারণা বদলে দিয়েছে। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ তৈরি এই কারাগারকে অনেকেই পাঁচ তারকা হোটেলের সঙ্গে তুলনা করছেন।  

চার হাজার কয়েদির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই কারাগারটি সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে কোলপিনোতে অবস্থিত। এটি কুখ্যাত ক্রেস্টি কারাগারের আধুনিক সংস্করণ, যেখানে একসময় রাজনৈতিক নেতাদের বন্দি করে রাখা হতো।  

ক্রেস্টি কারাগারের ইতিহাস বেশ পুরোনো। এটি ছিল বলশেভিক বিপ্লবের নেতা লিওন ট্রটস্কির মতো নেতাদের বন্দি রাখার আশ্রয়স্থল। সোভিয়েত আমলে রাজবন্দিদেরও এখানে আটকে রাখা হতো। ২০১৭ সালে পুরোনো কারাগারটি বন্ধ করে বন্দিদের আধুনিক ক্রেস্টি-টু কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।    

ক্রেস্টি-টু কারাগার গড়ে তুলতে খরচ হয়েছে কয়েকশত কোটি টাকা। এখানে রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা, যার মধ্যে রয়েছে রেস্টুরেন্ট, কনসার্ট হল, জাদুঘর ও হাসপাতাল।  

কারাগারের দীর্ঘ করিডরগুলোতে অটোওয়াক (স্বয়ংক্রিয় চলার পথ) বসানো হয়েছে, যা বন্দিদের চলাচল সহজ করেছে। 

নতুন কারাগারের পরিবেশ দেখে বন্দিদেরও সন্তুষ্টির অভাব নেই। কারাবন্দি ইয়ান বলেন, 'যেমন হওয়া উচিত, এখানে ঠিক তাই রয়েছে।'  

ক্রেস্টি-টু কারাগারের অপারেশনাল ডিপার্টমেন্টের প্রধান নিকিতা ইলিন জানিয়েছেন, এটি পুরোনো ক্রেস্টি কারাগারের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।  

প্রায় দেড় দশক আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ক্রেস্টি কারাগারকে আধুনিক রূপ দেওয়া হয়। নতুন কারাগারটি নির্মাণের ফলে আগের তুলনায় কয়েদি ধারণক্ষমতা চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।  

আগে যেখানে ৯৬০টি সেলে ১,১৫০ বন্দিকে রাখা হতো, সেখানে এখন চার হাজার কয়েদির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে।   

এই কারাগার দুটি ক্রস আকৃতির ভবন নিয়ে গঠিত হওয়ায় একে ‘ক্রেস্টি’ বলা হয়। মূলত প্রথম ক্রেস্টি কারাগারটি ছিল কুখ্যাত বন্দিশালা, কিন্তু এর নতুন সংস্করণ হয়ে উঠেছে অত্যাধুনিক এক বন্দি কেন্দ্র।  

এই কারাগার সাধারণ ধারণার বাইরে গিয়ে কারাবন্দিদের জন্য একটি আধুনিক ও কমফোর্টেবল পরিবেশ তৈরি করেছে, যা বিশ্বের অনেক কারাগারের তুলনায় ব্যতিক্রম।

ইত্তেফাক/টিএইচ