ঈদের আগের দিনে শেষ করুন সব কাজ

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৫, ১২:২৪

প্রতিবছর এই ঈদ উদযাপনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। দীর্ঘ এক মাস রোজা পালনের পর এই ঈদ আসে। যা মুসলিমদের জন্যে অনেক বড় উৎসব।

ঈদ মানেই দিনভর ব্যস্ততা। আর ঈদের দিনে ব্যস্ততা যেন একটু বেড়ে যায়। তাই ব্যস্ততা কমাতে ঈদের আগের দিনেই কিছু কাজ সেরে ফেলুন। তাহলে আর ঈদের দিন বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে না। চলুন জেনে নেয় ঈদের আগের দিনে যা প্রস্তুতি নিবেন-

ঘরবাড়ি পরিপাটি-
ঈদের দিনে বাড়িতে মেহমানের আনাগোনা তো থাকবেই। তাই ঈদের আগেই গুছিয়ে ফেলুন পুরো বাড়ি। অনেকেই ঘর গোছানোর প্রস্তুতি সবার শেষে নেন। এটা ভুল। বরং রান্নাঘর সবার শেষে পরিষ্কারের চিন্তা করতে পারেন। তবে বাসার অন্যান্য ঘর সবার আগেই গুছিয়ে নিন। কেননা ঘরটা গোছানো হয়ে গেলে আপনার মনও শান্ত হবে অনেকাংশে। মন শান্ত হলে অন্য কাজেও করতে পারবেন সহজে। ঘরের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে বিছানার চাদর বদলে নিন। জানালা বা অন্যান্য অংশও পরিষ্কার করুন। ঘরের সাজসজ্জায় তাজা ফুল রাখতে পারেন। ঘর সাঁজাতে বাড়ির অন্যদের সহযোগিতা নিন। কেননা এটা একা তো করা সম্ভব নয়। এছাড়াও ঈদের আগে তো পরিবারের সবার মধ্যে উত্তেজনা থাকে। তাই সবাই মিলেই ঘর গোছান।

 

ঈদের পোশাক প্রস্তুতি-
ঈদের সকালে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই ঈদের জায়নামাজ, পোশাক আগেই বের করে রাখুন। যেন পরের দিন দৌড়ঝাঁপ করতে না হয়।  এছাড়াও ঈদের দিনের পরিবারের প্রত্যেকের পোশাক আলাদা করে রাখুন। যদি ইস্ত্রি করা নাও থাকে তাহলে সেটাই আগে করে রাখুন। দর্জিবাড়িতে কোনো কাজ থাকলে সেটাও সেরে নিন। কেননা পরে আর আফসোস করার সময় পাবেন না।


তালিকা করুন-
এবার ধীরে সুস্থে বসে ঈদের দিনের মেনু নিয়ে ভাবুন। মেনুর ওপর নির্ভর করে একটি তালিকা তৈরি করুন। এরপর তালিকায় থাকা সামগ্রীগুলো বাজার থেকে আনান। গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। কেননা আজকাল পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কাজই ভালোভাবে সম্পন্ন করা যায় না। তাই এই বিষয়ে বাড়তি মনোযোগ সবসময়ই রাখতে হয়।


হেঁশেলের প্রস্তুতি-
ঈদের আগের দিনে রান্নার কিছুটা প্রস্তুতি সেরে রাখাই যায়। সেক্ষেত্রে ফ্রিজ পরিষ্কার করা জরুরি। তাই ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভালোভাবে পরিষ্কার করে রান্নাঘরের ভেতর জমে থাকা সব ময়লা পরিষ্কার করে ফেলুন। একটা পলিতে সব ময়লা জমিয়ে রাখুন। সেগুলো পরে একসঙ্গে ফেলে দেবেন। এছাড়াও রান্নাঘরে মসলা, কাটাকুটির যন্ত্রপাতি সবই হাতের কাছে গুছিয়ে রাখুন। ঈদের দিনের ব্যস্ততায় যেন তালগোল না পাকে সেভাবেই প্রস্তুত করুন।


রান্নার প্রস্তুতি আগের দিনেই-
ঈদের আগের দিনেই রান্নার প্রস্তুতি সেরে নেওয়া যেতে পারে। রান্না হয়তো করলেন না, তবে ঈদের আগের দিন অনেক কিছুই করে ফেলা যায়। ঈদের আগের দিনই মাংস প্রস্তুত করা যায়। বিশেষত অনেক রেসিপির ক্ষেত্রে মাংস মেরিনেট করে রাখতে হয় সারারাত। সেক্ষেত্রে মেনু অনুযায়ী খাবারের উপকরণগুলো তৈরি করে রাখুন। এছড়াও অনেকে ফ্রিজের ভেতর মাংস রাখেন। তবে এমনটা করা ঠিক না। বরং ঈদের আগের দিন ফ্রিজ পরিষ্কার করে মোটা পলিতে মাংস রেখে সংরক্ষণ করুন। মাংস যেন বরফ হয়ে লেগে না যায় তাই এই ব্যবস্থা করা ভালো।


তৈরি থাকুক মসলাপাতি-


ঈদে বিভিন্ন পদের রান্না হয়ে থাকে। তাই রান্নার পদের সেই মসলাগুলো আগে থেকে তৈরি রাখলে ঈদের দিন রান্নার কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। ঈদের আগের দিন একসঙ্গে বেশি করে পেঁয়াজ কেটে বক্সে করে ফ্রিজে রেখে দিন। আদা-রসুন আগের দিনই বেশি করে বেটে বা ব্লেন্ড করে ফ্রিজে রেখে দিন। বিভিন্ন ধরনের মসলা মিক্স যেমন বিরিয়ানির জন্য মসলা বা চটপটির মসলা আগেই গুঁড়া করে নিয়ে আলাদা আলাদা বয়ামে রেখে দিন। গোটা গরম মসলা যেমন- এলাচ, দারুচিনি, তেজপাতা প্রভৃতি এগুলো সংগ্রহ করে আলাদা কৌটাতে রেখে দিন।রান্নার ঠিক আধঘণ্টা আগে বাটা মসলা ফ্রিজ থেকে বের করে আনুন।


আপ্যায়নের বাসনকোসন-


ঈদের আগের দিনই খাবার পরিবেশনের জন্য বিভিন্ন পাত্র এবং প্লেট, বাতি, চামচ, গ্লাস ইত্যাদি শোকেস থেকে নামিয়ে ধুয়ে মুছে রেডি করে রাখুন। খাবার টেবিল সাজাতে রানার ব্যবহার করতে পারেন। এখন চেয়ারে কভার দেওয়ার চলও ফিরে এসেছে। তাই খাবার ঘরের দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বা পরিবেশনের তৈজসপত্রের রঙের থেকে বিপরীত রঙের টেবিল রানার ও ন্যাপকিন ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও খাবার টেবিলের সজ্জায় কিছু শোপিসও রাখতে পারেন। অথবা একটি বাহারি মোমদানি। 


আগাম রান্নাবান্না-


ঈদের আগের দিন নিজেরা খাওয়ার জন্য বা অতিথি আপ্যায়নের জন্য কিছু খাবারের ব্যবস্থা আগেই করে ফেলতে পারেন। স্টেকের মাংস, কিমা, পরোটার জন্য ভুনা আগেই বানিয়ে রাখতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন যেমন পায়েস, সেমাই, শাহী টুকরা ইত্যাদি আগের দিন রাতেই বানিয়ে ফেলে নরমাল ফ্রিজে রাখতে পারেন। অন্যান্য খাবার আয়োজন যেমন চটপটি বা পাস্তা তৈরি করতে হলে আগের দিন থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। যেমন- চটপটির ডাল সিদ্ধ করে রেখে দিতে পারেন বা পাস্তার জন্য সবজি-মাংস এগুলো প্রস্তুত করে রেখে দিতে পারেন। এছাড়াও ঈদের দিন কাবাব পরিবেশন করতে চাইলে আগেই মাংসের কিমা কিনে এনে কাবাব তৈরি করে রাখতে পারেন।ঈদের সকালে খাওয়ার জন্য রুটি, পরোটা আগে বানিয়ে চুলায় হালকা করে ছেঁকে নিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। খাবার সময় বের করে ভেজে নিলেই দ্রুত পরিবেশন করতে পারবেন। এছাড়াও বাঙালি বাড়িতে তো অতিথি আপ্যায়নের জন্য চা পরিবেশন করার রীতি রয়েছে। তবে বারবার চা তৈরি করতে গেলে অন্য কাজে দেরি হতে পারে, তাই চাইলে আগেই বেশি করে চায়ের লিকার তৈরি করে ফ্লাস্কে রেখে দিতে পারেন।


ঈদের আগে নিজের যত্ন-


ঈদের দিনের মেকআপের জন্য প্রয়োজনীয় সব কসমেটিকস কেনা হয়ে গেলে ড্রেসিং টেবিলে তা মেকআপ ব্রাশ, স্পঞ্জসহ গুছিয়ে রাখুন। যাতে সাজার সময় হাতের কাছেই সহজেই সব পেতে পারেন। কী লুকে সাজবেন তাও সিলেক্ট করে নিন। হেয়ার স্টাইলও ঠিক করে নিন। হেয়ার ব্যান্ড, চিরুনি ধুয়ে রাখুন। এছাড়াও ঈদের আগের দিনই বিভিন্ন ফেসপ্যাক বা ত্বকের যত্ন নেওয়ার কাজ সেরে নিন। পার্লারে গিয়ে ফেসিয়াল, মেনিকিউর, পেডিকিউরও করে আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে ঈদের দিন বেশ প্রাণবন্ত দেখাবে আপনাকে। আর ঈদের আগের দিন হাতে অবশ্যই মেহেদি দিবেন। কেননা মেহেদি না দিলে ঈদের আমেজটাই যেন আসে না।

ইত্তেফাক/পিএস/এনটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন