ঈদের জামাত শেষ। কোরবানির মহিষটি জবাইয়ের জন্য অপেক্ষা। এ অবস্থায় হঠাৎ দড়ি ছিঁড়ে দৌড়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ত্রিপুরার সাব্রুমে পালিয়ে যায় পৌনে দুই লাখ টাকায় কেনা বিশালাকারের মহিষটি। উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয় খাগড়াছড়ির রামগড়ের ব্যবসায়ি মো. নাজিম উদ্দিনের পরিবারের।
দু:খ আর হতাশায় কাটে তাদের ঈদের সারাটা দিন। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ভারতে পালানো মহিষটি ফিরে পেতে সহায়তার অনুরোধ জানান রামগড়স্থ ৪৩ বিজিবির বাগানবাজার বিওপির কমান্ডারের কাছে।
বিওপি কমান্ডার এটি অবহিত করেন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ককে। অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম দ্রুত মহিষটি ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে সে দেশের সীমান্তরক্ষীবাহিনী বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেন।
শুরু হয় দুই দেশের সীমান্তরক্ষীবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ-আলাপ-আলোচনা। বিজিবির অনুরোধে ওপারের ১১৪ ব্যাটালিয়নের বিএসএফ শুরু করে মহিষটি উদ্ধারের অভিযান। কিন্তু জঙ্গলে ঢুকে পড়ায় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। এদিকে দিন গড়িয়ে রাত হয়ে যায়। ফলে ওই দিন (শনিবার) মহিষটি আর ধরা সম্ভব হয়নি বিএসএফের পক্ষে।
রোববার সকাল থেকে পুনরায় চেষ্টা চালায় বিএসএফ। ওপারের লোকজন ও বিএসএফের তৎপরতায় রোববার সকাল ১১ টার দিকে মহিষটি ফেনীনদী পার হয়ে আবার বাংলাদেশ ফিরে আসে।
পরে বিজিবি ও স্থানীয় লোকজনের প্রচেষ্টায় মহিষটি ধরা পড়ে। রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিজিবি মহিষটি হস্তান্তর করে মালিক নাজিম উদ্দিনের কাছে। মহিষটি ফেরৎ পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।
নাজিম উদ্দিন বলেন, বিজিবি’র সহানুভূতিশীলতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় আজ আমরা শুধু পশুটি ফেরৎ পাইনি, আমাদের ঈদের আনন্দও ফিরে পেয়েছি। এটা শুধু একটা পশু ফেরত আনার ঘটনা নয়, এটি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি বিজিবির শ্রদ্ধা ও সীমান্তবর্তী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য নজির।
তিনি আরও বলেন, এক লাখ ৭৫ হাজার টাকায় মহিষটা কিনি কোরবানির জন্য। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর পশুটি ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু বিজিবি আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের মহিষটি ফিরে পেতে যে সহযোগিতা করেছেন তা অকল্পনীয়।
৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম পিএসসি বলেন, কোরবানি ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়। এ অনুভূতির প্রতি সম্মান রেখে রামগড় বিজিবি ব্যাটালিয়ন ভারতে পালিয়ে যাওয়া মহিষটি উদ্ধারে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। রোববার পশুটি দেশে ফিরিয়ে এনে মালিককের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মহিষটি ফেরত পেয়ে ওই মালিকের পরিবারটি যেমন ঈদের আনন্দ ফিরে পেলেন, তেমনি আমরাও তাদের এ আনন্দে আনন্দিত।
তিনি আরও বলেন, বিজিবি সীমান্তপ্রহরার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের বিপদ-আপদে সহযোগিতা দিতে সর্বদা তাদের পাশে আছে এবং থাকবে।
