রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সব উন্নয়নকাজ বন্ধের ঘোষণা ঠিকাদারদের

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৫, ২০:১৮

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সব ধরণের উন্নয়ন কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ঠিকাদাররা।

বুধবার (২৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর সপুরা এলাকার রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের উপর সমাবেশ করে তারা এই ঘোষণা দেন।

এ সময় ঠিকাদাররা দাবি করেন, তাদের বকেয়া বিলের প্রায় ২৫০টি ফাইল আড়াই মাস ধরে টেবিলে ফেলে রেখেছেন রাসিক সচিব রুমানা আফরোজ। এতে ১৫ জন ঠিকাদারের বকেয়া প্রায় ১০০ কোটি টাকা আটকে আছে। টাকা না পাওয়ায় তারা শ্রমিকের মজুরি দিতে পারছেন না।

সমাবেশে ঠিকাদার রেজাউল করিম বলেন, ‘গত কয়েকমাস ধরে রাসিকের সচিবকে বকেয়া পাওনা টাকা ছাড়ের জন্য অনুরোধ করেছি। কোনো কাজ না হওয়ায় গত ২০ জুলাই আমরা সংবাদ সম্মেলন করে বিল ছাড়ের জন্য অনুরোধ করেছি। এরপরও কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আমাদের সঙ্গে আলোচনারও প্রয়োজন বোধ করেননি। ফলে আমাদের এখন কাজ বন্ধ করতে হচ্ছে।’

আগামী রোববার শ্রমিক ও সর্দারদের নিয়ে নগর ভবনের সামনে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে আরেক ঠিকাদার সালাহউদ্দিন গাজী বলেন, ‘শহরে চারটি ফ্লাইওভার, ছয়টি কাঁচাবাজার ও বেশকিছু রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। আমরা মাসে মাসে বিল নিয়ে কাজ করি। কিন্তু রাসিকের নতুন প্রশাসন কোনো বিলই ছাড়ছেন না। এই অবস্থায় শ্রমিকেরা টাকার জন্য বাড়ির সামনে চলে আসছে। আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। তাই কাজ বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

আরেক ঠিকাদার প্রকৌশলী শাকিলুর রহমান বলেন, ‘হাতে টাকা না থাকায় ঠিকাদাররা দ্রুত কাজ শেষ করতে পারছেন না। ফলে কাজ চলমান অবস্থায় রাস্তায় নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি প্রচুর দূষণ হচ্ছে। রাজশাহী যে গ্রিনসিটি, সেটা আগামীতে থাকবে কি না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। এখনও নব্য স্টাইলে আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের মনে রাখা দরকার, আমাদের ওপর কয়েক হাজার পরিবার নির্ভরশীল। তারাও খুব কষ্টে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশন আমাদের ভ্যালুলেস হিসেবে ট্রিট করছে। একজন পিয়নের কথার দাম আছে, কিন্তু আমাদের নেই। সচিবের কাছে গেলে ঠিকাদার অ্যালাউ না। এটা তো হতে পারে না। টাকা বিনিয়োগের পর বিল না পেয়ে ঠিকাদারদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।’

আরেক ঠিকাদার ইয়াহিয়া খান মিলু বলেন, ‘আড়াই মাস ধরে সচিব কোন বিল ছাড়েননি। এতে জনগণের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটছে। জনগণই তো দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এই সচিব সময়মতো অফিসও করেন না। অফিস করেন রাতে। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর। বিল আটকে রেখে জনদুর্ভোগ তৈরি করে তিনি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চান।’

সমাবেশ শেষে সপুরায় ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ বন্ধের ঘোষণা দেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রাসেল ইসলাম। পাশাপাশি অন্য ঠিকাদারেরা তাদের সকল কাজ বন্ধের ঘোষণা দেন। এ সময় ঠিকাদার হাফিজুল ইসলাম, বেলাল খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিষয়ে মোবাইলে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন রাসিক সচিব রুমানা আফরোজ। তবে ঠিকাদারদের বকেয়া বিল আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম। তিনি বলেন, 'কোথায় ঠিকাদারদের ২৫০ ফাইল আটকে আছে? আমি এসব জানি না। বিল আটকে রাখলে ঠিকাদারেরা জানাতে পারতেন। তাকে কেউ বিষয়টি জানাননি।'  

ইত্তেফাক/এপি