পাবলিক টয়লেট নিয়ে বন কর্মকর্তার সঙ্গে এসিল্যান্ডের বাগ্‌বিতণ্ডা, ভিডিও ভাইরাল

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫, ১৫:০৭

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের প্রসিদ্ধ পর্যটন স্পট হিমছড়ি ঝর্ণার আশেপাশের জায়গার মালিকানা নিয়ে রামু উপজেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিরোধের জেরে পক্ষে-বিপক্ষে স্থাপনা উচ্ছেদের পর সরকারি দুই কর্মকর্তার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ে একটি পাবলিক টয়লেট ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) সঙ্গে রামু উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) প্রকাশ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে এসেছে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে রামু প্রশাসনজুড়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

ওই দুই দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের হিমছড়ি ঝর্ণার আশপাশে বনবিভাগের অধীনে হিমছড়ি জাতীয় ‍উদ্যান, বনবিভাগের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিসর্গসহ নানা অনুষঙ্গ রয়েছে। একইভাবে পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিতির কারণে রামু উপজেলা প্রশাসনের অধীনে হিমছড়ি বাজার, পার্কিং, পাবলিক টয়লেট বিদ্যমান। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের দুটি বিভাগের নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য চলছে। তবে কখনও প্রকাশ্য বিরোধ হয়নি।

সম্প্রতি একটি স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে জায়গার মালিকানা বিষয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। যা প্রকাশ্যে এসেছে বৃহস্পতিবার।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম সোহেল সাংবাদিকদের জানান, হিমছড়ি ঝর্ণাটি বনবিভাগের পক্ষে ইজারা দেওয়া হয়। আর এই ঝর্ণার সামনের বাজার, পার্কিং ইজারা দেয় রামু উপজেলা প্রশাসন। হিমছড়ি বাজারে গত ৪ বছর আগে এনজিওর অর্থায়নে একটি পাবলিক টয়লেট তৈরি হয়। যা ইজারা দেয় উপজেলা প্রশাসন। সম্প্রতি পর্যটন স্পট ঝর্ণার কিছু সংস্কার কাজ শুরু করে বনবিভাগ। এ সংস্কারের অংশ হিসেবে নতুন গেইট নির্মাণের জন্য পাবলিক টয়লেটের কিছু অংশ বৃহস্পতিবার সকালে ভেঙে ফেলে বনবিভাগ। বিষয়টি জানার পর এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে এসে টয়লেট ভেঙে দেওয়ার কারণ জানতে চান। পরে এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে তর্ক হয়। 

এরপর সহকারী কমিশনার ভূমি হিমছড়ি ঝর্ণার উত্তর পাশে বনবিভাগের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিসর্গ-এর পাশে অবস্থিত কিছু স্থাপনা এক নম্বর খাস খতিয়ানের দাবি করে তা ভাংচুর করে।

বিষয়টি জানাজানির পর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ঘটনাস্থলে গেলে তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

কক্সবাজার রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হাবিবুল হক জানান, নিসর্গ পুরোটাই বনবিভাগের বিএস ২নম্বর খতিয়ানের অধীনে সংরক্ষিত বনভূমি, যা হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানের রক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত। যেখানে থাকা বন পাহারার গোল ঘর, ঘেরা-বেড়া, হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানের সাইনবোর্ডটি ভেঙ্গে দিয়েছেন এসিল্যান্ড। অথচ দীর্ঘদিন ধরে বনবিভাগের জমিতে পাবলিক টয়লেটটি পরিচালিত হলেও কোন হস্তক্ষেপ করা হয়নি। ঝর্ণার প্রবেশ গেইট নির্মাণের কারণে তার কিছু অংশ ভাঙতে হয়েছে।

বনবিভাগের দক্ষিণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শতভাগ বনবিভাগের জমিতে সহকারি কমিশনার ভূমি ভাঙচুর করেছেন। এতে বনবিভাগের ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা বন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে অপদস্থ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করার পর জেলা প্রশাসক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। উনারা কি ব্যবস্থা নেন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। না হয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলকে নিদের্শ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে রামু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিলো খাস খতিয়ানের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি বনবিভাগ সেটি নির্মাণের অনুমতি দেয়। যেখানে রেস্টুরেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। পরে বনবিভাগের অফিসে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দেশ উপেক্ষা করে বনবিভাগের কর্মকর্তারা কাজ করতে বলে।

তিনি আরো বলেন, খবর পেয়ে আবারও সেখানে গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযানে গেলে তারা বাঁধা দেওয়ায় তর্ক হয়। এ ঘটনায় তারা ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে আলাপ করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, এখানে বনবিভাগে এবং প্রশাসন উভয়পক্ষের জায়গা রয়েছে। আমরা উভয় পক্ষ সরকারের স্বার্থে কাজ করছি। বিষয়টি নিয়ে এসিল্যান্ডের সঙ্গে বনভিাগের ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। আমি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে এর নিরসন করেছি।

তিনি বলেন, এখানে বিরোধের কিছু নেই। উভয়পক্ষ তো সরকারের জন্য কাজ করছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা একটু বিব্রতকর। 

ইত্তেফাক/এপি