চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মাধবপুরে স্বামী মনিরুল ইসলাম ফেলাকে (৫২) জবাই করে হত্যার ঘটনার মাত্র ১৩ ঘণ্টার মাথায় ঘাতক স্ত্রী উলফা খাতুন ওরফে পাপিয়াকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের খালা মর্জিনা খাতুনের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া পুলিশের নিকট স্বামী হত্যার সাথে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক ছেলে রাজুকে (২৩) খুঁজছে পুলিশ।
জীবননগর থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের বালিহুদা গ্রামের দিদার আলী মণ্ডলের ছেলে মনিরুল মাত্র দুই মাস পূর্বে নিজ গ্রাম ছেড়ে পার্শ্ববর্তী মাধবপুর গ্রামের প্রাইমারী স্কুলের পাশে জমি ক্রয় করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। মনিরুল মাটি কাটার দিনমজুরের পাশাপাশি কলার ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শনিবার তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস জানান, ঘটনার দিন রাত ১১টার সময় নিহত মনিরুলের ভাই জাকির হোসেন জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলা দায়েরের পর প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাপিয়ার অবস্থান নির্ণয় করে পুলিশ। রাত ১টার সময় জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের তার খালার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর পাপিয়া পুলিশকে জানায়, মাধবপুর গ্রামের জমি তার টাকায় কেনা। কথা ছিলো এ জমি তার নামে ক্রয় করা হবে; কিন্তু স্বামী কথা না রেখে বেঈমানী করে নিজের নামে করে নেয়। এ ছাড়াও বালিহুদায় বিক্রি করা জমি টাকা নিয়ে ছেলে রাজু বিদেশ যেতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু মনিরুল তাদের কোনো কথাই রাখছিলেন না। জমি ফেরত কিংবা রাজুকে বিদেশে যেতে টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে মনিরুল। ফলে মা ও ছেলে ক্ষুব্ধ হন মনিরুলের উপর।
শনিবার দুপুরে এ নিয়ে মনিরুলের সাথে মা-ছেলের দ্বন্দ্ব বাধে। দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে মনিরুল কুড়াল তুলে তাদের মারতে উদ্যত হয়। এমন সময় পাপিয়া তার স্বামীর গলায় হাসুয়া দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মনিরুলের মৃত্যু ঘটে। ঘটনার সময় ছেলে রাজু তার সাথে ছিলো। পরে রক্তাক্ত লাশ রেখে স্ত্রী ও ছেলে পালিয়ে যায়।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘রোববার (২৭ জুলাই) পাপিয়াকে আদালতে সোপর্দ করার আগ পর্যন্ত অধিকতর তদন্তে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।’
