বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বর্ষাকালে রাজধানীর বাতাসের মানে কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার বাতাস সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও আজ মেগাসিটি ঢাকার বাতাসে বেশি ক্ষতিকর কণা পাওয়া গেছে। বিশ্বের ১২৫টি শহরের মধ্যে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে হয়ে ৯ম স্থানে অবস্থান করছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
একই সময়ে ১৮১ স্কোর নিয়ে প্রথম স্থানে আছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা। এখানকার বাতাসের মান নাগরিকদের জন্যে ‘অস্বাস্থ্যকর’।
এছাড়াও একই তালিকায় ১৭৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে বাহরাইনের রাজধানী মানামা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের শহর লাহোরের স্কোর ১৭৮ এবং রাজধানী ঢাকা ১৩২ স্কোর নিয়ে ৯ম অবস্থানে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বাতাসের গুণমান নির্ধারণের একিউআই স্কেল অনুযায়ী ০-৫০ ভালো, ৫১-১০০ মাঝারি, ১০১-১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়।
এছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়, ৩০১ বা তার বেশি একিউআই স্কোরকে ‘দুর্যোগপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বাংলাদেশের একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুসারে, বায়ু দূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর অন্তত ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বায়ুদূষণ নাগরিকদের জন্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বাইরে বের হলে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়ির বাইরে কম বের হতে বলা হয়েছে। শহরে সবুজায়ন ও গাছপালা বৃদ্ধির মাধ্যমে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

