২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান–এর প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ঢাকার ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ক্যাম্পাসে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, গত বছরের আন্দোলন ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। তবে এক বছর পার হলেও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আশানুরূপ অগ্রগতি না থাকায় হতাশা তৈরি হয়েছে।
সভায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষক মোস্তফা ফিরোজ ও শামসুল আলম লিটন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ বলেন, যারা এক বছর আগে রাজপথে নেমেছিল, তারা এখনও প্রস্তুত। যাদের কাঁধে স্বপ্নপূরণের দায়িত্ব ছিল, তারা সেই দায়িত্ব কতটা পালন করেছে তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন না হলে ছাত্রসমাজ আবার জাগবে।
শামসুল আলম লিটন বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন প্রতিরোধ করতে জানে। সমতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হলে তারা আবার রাজপথে নামবে।
ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস ম্যানেজমেন্টের ডিন অধ্যাপক ড. গোলাম আহমেদ ফারুকী বলেন, বাংলাদেশ পরিবর্তনের এক পথে যাত্রা শুরু করেছে। তবে এই পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য সময় ও সততা দরকার।
সোশ্যাল সায়েন্সের ডিন অধ্যাপক ড. বিজয় প্রসাদ বড়ুয়া বলেন, নৈতিকতা ছাড়া ছাত্রদের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।
ইউনিভার্সিটির প্রোভোস্ট চ্যান জো জিম বলেন, আন্দোলনের ত্যাগ ভুলে গেলে চলবে না। ভবিষ্যৎ গড়তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে।
আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ও ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল-কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভা শেষে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে একটি চিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়, যেখানে আন্দোলনের বিভিন্ন দৃশ্য ও মুহূর্ত তুলে ধরা হয়।

