কাশ্মীরে ফের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকেই দায়ী করেছে মানবাধিকার সংগঠন ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস ইন জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর (FHRJK)। সম্প্রতি প্রকাশিত তাদের ষষ্ঠ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে বহিরাগতদের বসিয়ে দেওয়ার ফলে স্থানীয় তথ্য সংগ্রহের চ্যানেল ভেঙে পড়েছে। এর ফলে সন্ত্রাসবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু–কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ একচেটিয়াভাবে কুক্ষিগত করেছে। এর ফলে, তৃণমূল পর্যায়ের জন–প্রশাসনের মধ্যে যে যোগাযোগ ছিল, তা ছিন্ন হয়েছে।
বিশিষ্ট নাগরিকদের এই ফোরামের দাবি, রাজ্য প্রশাসনের ওপর আস্থা না রেখে বহিরাগতদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার ফলে পীর পাঞ্জাল ও চন্দ্রভাগা উপত্যকা অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়েছে কাশ্মীরজুড়ে। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য না পাওয়ার কারণে পেহেলগামের হামলা ঠেকাতেও ব্যর্থ হয় প্রশাসন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনের পরেও কাশ্মীরবাসী মনে করে, তাদের হাতে ক্ষমতা নেই। আসল ক্ষমতা নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর নয়, উপরাজ্যপালের। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তাবও উপেক্ষিত হয় কেন্দ্রের হাতে।
পেহেলগাম হামলার পর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে হাজার হাজার মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসনের ভেতরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
ফোরামের সুপারিশ: জম্মু–কাশ্মীরকে আবার রাজ্যের মর্যাদা দিতে হবে, ২০১৯ সালের 'জম্মু–কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন' বাতিল করতে হবে, মানবাধিকার, নারী ও জবাবদিহি কমিশন পুনঃচালু করা, লাদাখের জনগণের দাবি নিয়ে আলোচনায় বসা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অতীতে দেখা গেছে—নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধি ও মানবাধিকার সম্মত আইন প্রয়োগে জনগণের আস্থা ফিরে আসে। তাই এই পথেই কাশ্মীরকে স্বাভাবিকতার পথে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব।
