বড়পুকুরিয়ায় সচল এক ইউনিট

কয়লার পাহাড়ে চাপা পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন!

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৫, ১৬:২১

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা-ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র যেন চলছে হোঁচট খেয়ে। শুরু থেকেই বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তিনটি ইউনিটের একযোগে চালু থাকা সম্ভব হয়নি। কখনো একটি, কখনো দুটি ইউনিট চালু থাকলেও বর্তমানে চলছে মাত্র একটি। বাকি দুটি ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে অচল।

ফলে উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও দিনাজপুর বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ৮টি জেলার ওপর লোডশেডিংয়ের চাপ বাড়ছে। জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ওপর নির্ভর করেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত। তবে চাহিদানুযায়ী কয়লা ব্যবহৃত না হওয়ায় কোল ইয়ার্ডে কয়লার মজুত বেড়েই চলেছে। অতিরিক্ত মজুদের ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে খনির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একজন প্রকৌশলী জানান, “তিন শিফটে ২৪ ঘণ্টা ইউনিটগুলো চালু রাখার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে একটি ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। বাকি দুইটির মধ্যে একটিকে প্রায়ই মেরামতের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও হঠাৎ ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।”

এবারের সমস্যা কয়লার ঘাটতিতে নয়, বরং কয়লার অতিরিক্ত মজুদের ঝুঁকি নিয়ে। উৎপাদনের তুলনায় ব্যবহার কম হওয়ায় কয়লার মজুত অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। বড়পুকুরিয়া কোল ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা যেখানে ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন কয়লা।

কয়লাখনি সূত্র জানায়, কয়লা দাহ্য পদার্থ হওয়ায় ৫ মিটারের বেশি উচ্চতায় স্তূপ করাও নিরাপদ নয়। অথচ বর্তমানে কয়লার স্তূপের উচ্চতা ১৫ থেকে ২০ মিটার ছাড়িয়ে গেছে। এতে ইতোমধ্যেই কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (মাইনিং) খান মো. জাফর সাদিক বলেন, “প্রতিবছর খনি থেকে গড়ে ৮ থেকে ১০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা হয়। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত হয় সর্বোচ্চ ৭ লাখ টন, ফলে মজুত বেড়ে যাচ্ছে।”

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, “বর্তমানে তিনটি ইউনিটের মধ্যে কেবল তৃতীয় ইউনিট সচল রয়েছে। এটি থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ইউনিট সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হয়।”

ইত্তেফাক/আইএ/এনজি