৬৭ হাজার আবেদনের মধ্যে নির্বাচিত

পারমাণবিক আইসব্রেকারে চড়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উত্তর মেরু যাত্রা

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৫, ১৯:৪২

রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মুরমান্সক বন্দর থেকে বুধবার (১৩ আগস্ট) যাত্রা শুরু করেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অভিযান। রুশ পারমাণবিক আইসব্রেকারে চড়ে উত্তর মেরু অভিযানে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহমুদসহ বিশ্বের ২১টি দেশের ৬৬ জন শিক্ষার্থী। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটম-এর সহায়তায় এই অভিযান আয়োজন করেছে রাশিয়ার পরমাণু শক্তি তথ্যকেন্দ্র নেটওয়ার্ক।

রসাটম জানিয়েছে, ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ শীর্ষক এই অভিযানটি তাদের বিজ্ঞান শিক্ষাভিত্তিক প্রোগ্রামের ষষ্ঠ সংস্করণ। এবারের আয়োজনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি রুশ পারমাণবিক শিল্পের ৮০ বছর পূর্তি এবং উত্তর সমুদ্রপথ আবিষ্কারের ৫০০ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই অভিযানে রুশ শিক্ষার্থীরাও আছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রয়েছেন রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, পারমাণবিক ও মহাকাশ শিল্পের বিশেষজ্ঞ, জনপ্রিয় ভ্লগার, নভোচারী এবং বিজ্ঞান প্রচারে নিয়োজিত এক্টিভিস্টরা।

এই পারমাণবিক আইসব্রেকারটি মুরমান্সক থেকে যাত্রা শুরু করে উত্তর মেরু অতিক্রম করে ফ্রান্স জোসেফল্যান্ড-এ পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে আবার মুরমান্সকে ফিরে আসবে। আগামী ১৭ আগস্ট নাগাদ এটি উত্তর মেরুতে পৌঁছাবে এবং ২২ আগস্ট মুরমান্সকে ফিরবে।

উল্লেখ্য, ২২ আগস্ট জাতীয় পতাকা দিবস হিসেবে পালন করে রাশিয়া। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে অভিযানের সমাপ্তি একটি প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে।

অভিযান চলাকালে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম আয়োজন করা হবে, যেখানে বিভিন্ন সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করবেন। শিক্ষার্থীরা পারমাণবিক আইসব্রেকারের গঠন ও পরিচালনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাবেন। আর্কটিক অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি তারা এমন একটি স্থানে পা রাখবেন, যেখানে পৃথিবীর সমস্ত দ্রাঘিমারেখা এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছে।

এছাড়াও উত্তর মেরুর প্রতিকূল পরিবেশে রুশ রোভারগুলোতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষা চালানো হবে, যা অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক দিক।

রাশিয়ার যুব বিষয়ক ফেডারেল এজেন্সির প্রধান গ্রেগরী গুরভ জানিয়েছেন, এ বছর ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য ৪০০০ বিদেশিসহ মোট ৬৭ হাজার আবেদন জমা পড়ে। চূড়ান্ত নির্বাচনের জন্য তাদেরকে কয়েক ধাপে বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে।

রসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এটমফোট-এর মহাপরিচালক ইয়াকো আন্তোনভ বলেন, '৫০০ বছর পূর্বে আবিষ্কৃত উত্তর সমুদ্র পথকে ইউরোপ ও দূরপ্রাচ্যের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে রাশিয়া কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে রাশিয়াই একমাত্র দেশ যাদের নিজস্ব পারমাণবিক আইসব্রেকার রয়েছে।'

‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও পরমাণু প্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করে তোলা, পাশাপাশি মেধাবী তরুণদের খুঁজে বের করে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা প্রদান করা।

ইত্তেফাক/এনজি/এসকে