শেরপুরে জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপির ২৪ জন

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪:৩৭

শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের একঝাঁক বিএনপি কর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান উপলক্ষ্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ৯ নম্বর চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন বিএনপির ২৪ জন নেতাকর্মী ও সমর্থককে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চন্দকোনা ইউনিয়নের রাজলক্ষ্মী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফয়জুর রহমান ফিরোজ। তার উপস্থিতিতে ইউনিয়ন বিএনপির ২৪ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।

জামায়াতে যোগ দেওয়া বিএনপির ২৪ কর্মী হলেন– সোহেল রানা, মো. ইসমাইল, জাহিদুল ইসলাম, ইলিয়াস মিয়া, মো. মানিকুল, মো. ফারুক, মো. মামুন, মো. হাসান, মো. সাগর মিয়া, নোনা মিয়া, মো. রাকিবুল হাসান, ইবনে আনাজ, শফিকুল ইসলাম, সরাফাত মিয়া, হায়তুলা, মো. সেকান্দর আলী, মুসুদ, রফিকুল ইসলাম, মো. সিদ্দিক, মিলু মিয়া, মো. সেলিম মিয়া, মো. জাহিদুল ইসলাম এবং মো. মোখন।

যোগদান প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নকলা উপজেলা আমীর গোলাম সারোয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, যারা যোগদান করেছেন, তারা প্রায় দুই মাস আগে থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের প্রাথমিক কিছু বই দেওয়া হয়েছিল। তারা সেগুলো অধ্যয়ন করে জামায়াতের গঠনতন্ত্র ও কার্যক্রম ভালোভাবে জেনেছেন। সবকিছু বিবেচনা করেই তাদের প্রাথমিক সহযোগী সদস্য হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গোলাম সারোয়ার আরও বলেন, জামায়াতের সংগঠন কাঠামোতে ধাপে ধাপে সদস্যপদ দেওয়া হয়। প্রথমে সহযোগী সদস্য, তারপর কর্মী এবং সর্বশেষ রোকন বা পূর্ণ সদস্য। এই ২৪ জন বর্তমানে প্রাথমিক সদস্য হিসেবে দলে যোগ দিয়েছেন। তারা কর্মী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সিলেবাস অধ্যয়ন করছেন। আশা করছি, এক-দুই মাসের মধ্যেই তারা দ্বিতীয় ধাপে উন্নীত হবেন।

শেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন বিএনপির ২৪ জন নেতাকর্মী জামায়াতে যোগ দিয়েছেন– এ বিষয়ে আমি এখনো অবগত নই। খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি। অনেক সময় আওয়ামী লীগের লোকজন টেনে জামায়াতে নিয়ে যাচ্ছে, তবে আমাদের বিএনপির কেউ যাচ্ছেন কি না, তা না জেনে বলা যাবে না। রাজনীতি করা সবার সাংবিধানিক অধিকার। কেউ কেন জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন, সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়। কখনো রাগ-অভিমান, হিংসা, ক্ষোভ বা কোনো ধরনের সুবিধা পাওয়ার আশায় মানুষ দল পরিবর্তন করে থাকে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব; কোনো ত্রুটি ছিল কি না বা ব্যক্তিগত ক্ষোভ ছিল কি না। সবকিছু বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এপি