ফেনীতে সরকারি উন্নয়নকাজে চাঁদা দাবির অভিযোগে জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জেলা বিএনপির সদস্য ও ঠিকাদার সাইফুর রহমান রতন এবং সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও ঠিকাদার এনায়েত উল্যাহ স্বপন বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন।
পরে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. আবু জাহের বাদল মামলা দুটি আমলে নিয়ে এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করতে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
অভিযোগকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাতুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাইফুর রহমান রতন বলেন, ফেনী সদর উপজেলার দৌলতপুর-ধলিয়া এলাকায় তার দুটি সড়কের নির্মাণকাজ চলছিল। শনিবার দুপুরে ওই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার দাবি, দুটি সড়কের দুই কোটি ৮ লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৫-৭ শতাংশ হারে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। দাবি করা টাকা না দিলে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে সড়কের কাজ বন্ধ।
রতন আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও ফেনী শহরের এসএসকে সড়কে তাকে মারধর করা হয় এবং বড় বাজার এলাকায় হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন সময় তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের চরহুজুরী সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করার পর মাসুদ ও তার সহযোগীরা কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন রতন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে কিল-ঘুসি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।
অন্যদিকে স্বপন হার্ডওয়্যারের স্বত্ত্বাধিকারী এনায়েত উল্যাহ স্বপনও কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ করেন। তার দাবি, বিভিন্ন স্থানে ঠিকাদারি কাজের জন্য তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করা হয়।
স্বপনের অভিযোগ, ঠিকাদারি কাজের শিডিউল কেনার সময় ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির উদ্দিনের সঙ্গেও মাসুদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে গালাগাল, মারধরের চেষ্টা ও হাত কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন কামরুল হাসান মাসুদ। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। এনায়েত উল্যাহ স্বপনের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপির কাছে জায়গা-সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। সেটি তদন্তের জন্য তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই স্বপন তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
দৌলতপুর-ধলিয়ায় গিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে মাসুদ বলেন, তার বাড়ি ফেনী শহরে। ধলিয়ায় গিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগই প্রমাণ করে বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক।
ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, সড়কের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি ঠিকাদার সাইফুর রহমান রতন তাকে জানিয়েছেন। তিনি ঠিকাদারি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন। তবে উন্নয়নকাজে কেউ যাতে বাধা দিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
ফেনী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, চাঁদার দাবিতে সড়কের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দুই ঠিকাদার অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

