বাড়ছে পদ্মার পানি, মহিষের পাল নিয়ে বিপাকে খামারি

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৩:৫৮

বাড়তে শুরু করেছে পদ্মা পানি। গত তিন দিনে নদীতে পানি বেড়েছে ২ ফুটের বেশি। ফলে চরাঞ্চলে মহিষের পাল নিয়ে বিপাকে পড়েছে খামারিরা।

এর আগে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পদ্মার পানি বাড়ার কারণে নাটোর লালপুরের তিনটি ইউনিয়নের খামারিরা প্রায় ৫ হাজার গবাদিপশু নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন উঁচু স্থানে উঠে আসে। পানি নামার পর ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন তারা। তবে নতুন করে পানি বৃদ্ধির কারণে খামারিদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে গবাদিপশু রাখার জায়গার অভাবের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। গবাদিপশুগুলো আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়াসহ নানা রোগে।

খামারিরা বলছেন, পানি বাড়ার কারণে, গরু-মহিষ নিয়ে বাথানে (গবাদিপশু রাখার খোলা স্থান) ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নানা রোগব্যাধির পাশাপাশি দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। সংকট মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, লালপুর, বিলমাড়ীয়া ও দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের বাথানে প্রায় চার হাজার মহিষ  ও তিন হাজারের বেশি গরু পালন হয়ে থাকে। সম্প্রতি বন্যায় সেসব গরু-মহিষ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে খামারিরা। পর্যাপ্ত রাখার জায়গা ও চরণ ভূমি না থাকায় খাদ্য সংকট  ও গবাদি পশুর রোগ বালাই দেখা দিচ্ছে।

খামারি এজাজুল, হামিদুল, রহিম মন্ডল বলেন, চরে পানি ওঠায় মহিষের পাল নিয়ে উঠে এসেছি। কিন্তু মহিষগুলোকে ঠিকমত খেতে দিতে পারছি না। কোথাও চরানোর জায়গা নেই। ঘাস ও আওড়ের (ধানের খড়) দাম বেশি হওয়ায় কিনেও খাওয়াতে পারছিনা। নদীতে আবারও পানি বাড়ায় চরের বাথানে ফেরাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল্লাহ গবাদিপশুর খাদ্য সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, বন্যার কারণে পদ্মা নদীর চর থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আশ্রয় নেওয়া খামারিদেরকে পশু খাদ্য দেওয়া যায় কিনা সে ব্যাপারে প্রস্তাব করেছিলাম; তা কার্যকর হয়নি। গরু মাহিষের ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ এর মাত্রা কমেছে। তবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অবস্থান ও খাদ্য সংকটের কারণে গরু-মহিষগুলো খুরা রোগ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। গবাদিপশুকে পরিষ্কার পানি ও ডায়রিয়া আক্রান্তদের পর্যাপ্ত স্যালাইন খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

তিনি আরও জানান, বন্যার কারণে গরু-মহিষের খাবার উপযোগী ঘাসপাতা নষ্ট হয়ে গেছে। এসব ঘাসপাতা গজাতে আরও দুই মাস সময় লাগবে।

ইত্তেফাক/এপি