ভরা মৌসুমে সার নিয়ে ‘চালবাজি’, সংকটে নাজেহাল কৃষক

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:৩৪

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পুরোদমে রোপা আমনের আবাদ শুরু হয়েছে। এ সময় হঠাৎ দেখা দিয়েছে টিএসপি সারের ব্যাপক সংকট। কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় ডিলারের কারসাজিতে সার সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

তাছাড়া সারের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পার্থ এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলার রজত ঘোষের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে থানায় মামলাও হয়েছে।

মামলা সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা তিনটার দিকে ডিলার রজত ঘোষের গুদামের ১৩ বস্তা টিএসপি সার পাশের উল্লাপাড়া উপজেলার কুচিয়ামারা বাজারে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল। টিএসপি সার দেখে লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে তারা রজত ঘোষের দোকানের কর্মচারীকে আটক করে সারের ভ্যানসহ থানায় নিয়ে আসেন। সেদিন রাতেই রজত ঘোষের সারের দোকানের কর্মচারী মুর্শিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।  

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার রজত ঘোষ তাড়াশ পৌর শহরের বাজারের ব্যবসায়ী। সেখানে তার সার বিক্রির বড় গুদাম ঘর ও দোকান রয়েছে। কিন্তু তিনি বাজার থেকে বেশ দূরে মাধাইনগর ইউনিয়নের মাধাইনগর বাজারে সার গুদাম করে রেখে দেন। প্রত্যন্ত এলাকার সেই বাজার থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাড়াশ উপজেলার বাইরে বেশি দামে সার বিক্রি করে আসছেন। 

এদিকে ডিলার রজত ঘোষ নিজের অপরাধ ধামাচাপা দিতে তার সারের দোকানের কর্মচারী মুর্শিদের উপর জোরপূর্বক সার চুরির দায় চাপিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছে কৃষকরা। মূলত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাড়াশে সার সংকট দেখা দিয়েছে। 

ভুক্তভোগী কৃষক মোস্তফা, আব্দুল মালেক, শাহিনুর রহমানসহ অনেকে বলেন, এমনিতেই রোপা আমন আবাদের সময় টিএসপি সারের খুব সংকট। ডিলার রজত ঘোষের দোকান বন্ধ থাকায় সার পাচ্ছি না। সরেজমিনে গিয়েও ঘোষের সারের দোকান বন্ধ রয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা জানান, চুরির ঘটনার পর থেকেই দোকানটি বন্ধ রয়েছে। 

যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করে রজত ঘোষ বলেন, আমার সারের দোকানের কর্মচারী মুর্শিদ চুরি করে বেশি দামে পাশের উপজেলায় সার বিক্রির চেষ্টা করেন। সার চুরির অপরাধে মুর্শিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছেন, রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৯১০ হেক্টর। চলতি মাসে বিএডিসির ১৭ জন ডিলার ও বিসিআইসির ১২ জন ডিলার মাত্র ৪৮ বস্তা করে টিএসপি সার বরাদ্দ পেয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, ডিলার রজত ঘোষ নীতিমালা বহির্ভূতভাবে সার বিক্রির চেষ্টা করেন। সারগুলো জব্দ করা হয়েছে।  

তাড়াশ থানার ওসি মো. জিয়াউর রহমান দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ডিলার রজত ঘোষের দোকানের কর্মচারী মুর্শিদের নামে মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে দেখব চুরি করে বেশি দামে সার বিক্রিতে রজত ঘোষের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আইনে আওতায় আনা হবে। 

ইত্তেফাক/এপি