এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে সিলেটে এবার ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই এবার ফেল করেছে। বিগত ১২ বছরের মধ্যে এবার পাসের হার সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। ফলাফল ধ্বসের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ইংরেজিসহ কয়েকটি বিষয়ে খারাপ ফলের কারণে সামগ্রিক ফলাফল খারাপ হয়েছে।
ঘোষিত ফলাফলে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার ঢাকা বোর্ডে। ওই বোর্ডে পাসের হার ৬৪.৬২ শতাংশ। এছাড়া বরিশালে ৬২.৫৭ শতাংশ, রাজশাহীতে ৫৯.৪০ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৭.৪৯ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫২.৫৭ শতাংশ, সিলেটে ৫১.৮৬ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫১.৫৪ শতাংশ যশোরে ৫০.২০ শতাংশ ও কুমিল্লায় পাসের হার ৪৮.৮৬ শতাংশ।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে পাসের হার ৫১ দশমিক ৮৬; যা বিগত ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর ২০২৪ সালে পাসের হার ছিলো ৮৫ দশমিক ৩৯ ভাগ, ২০২৩ সালে ৭১ দশমিক ৬২ ভাগ, ২০২২ সালে ৮১ দশমিক ৪০ ভাগ, ২০২১ সালে ৯৪ দশমিক ৮০ ভাগ, আর ২০২০ সালে শতভাগ, ২০১৯ সালে ৬৭ দশমিক ০৫, ২০১৮ সালে ৭৩ দশমিক ৭, ২০১৭ সালে ৭২ ভাগ, ২০১৬ সালে ৬৮ দশমিক ৫৯ ভাগ, ২০১৫ সালে ৭৪ দশমিক ৫৭ এবং ২০১৪ সালে ৭৯ দশমিক ১৬।
বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সবাইকে পাস করিয়ে দেওয়া হয়। সেই বার ফলাফল প্রস্তুতিতে বিগত বছরের এসএসসির ফল বিবেচনা নেওয়া হয়। আর ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার কিছু নম্বর যোগ করে চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করা হয়েছিল, যার ফলে পাসের হার স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।
এবার সিলেটে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬৯ হাজার ৯৪৪ জন। ৬৯ হাজার ১৭২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। যার মধ্যে ছেলে ২৭ হাজার ৭৬৪ জন আর মেয়ে ৪১ হাজার ৪০৮ জন। মোট পাস হওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ হাজার ৮৭০ জন। যার মধ্যে ছেলে ১৩ হাজার ৮৭০ এবং মেয়ে ২২ হাজার ১ জন।
তাছাড়া মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬০২ জন যার মধ্যে ছেলে ৬৮১ এবং মেয়ে ৯২১ জন। পাসের হারে পিছিয়ে রয়েছে ছেলেরা। ছেলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করেছেন ৪৯ দশমিক ৯৬ জন আর মেয়েদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ১৩ ভাগ।
প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী পাসের হার সবচেয়ে কম মানবিক বিভাগে। এই বিভাগে পাস করেছেন ৪৫ দশমিক ৫৯ ভাগ পরীক্ষার্থী। আর বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৯৫ ভাগ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫০ দশমিক ১৮।
১৬০২ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্তের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে পেয়েছেন ১ হাজার ৩৭৯ জন, মানবিক বিভাগে ১৫৩ জন আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। আর গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬ হাজার ৬৯৮ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে কম মৌলভীবাজারে আর বেশি সিলেট জেলায়। সিলেটে পাসের হার ৬০ দশমিক ৬১ ভাগ, হবিগঞ্জে ৪৯ দশমিক ৮৮, সুনামগঞ্জে ৪৭ দশমিক ৩৫ এবং মৌলভীবাজারে ৪৫ দশমিক ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।

