ওয়ার্ল্ড পাইলস ডে-তে বিশেষজ্ঞরা

সংকোচ নয় সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪০

ওয়ার্ল্ড পাইলস ডে উপলক্ষে আয়োজিত এক সচেতনতা অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, পাইলস কোনো লজ্জার রোগ নয়, বরং অত্যন্ত সাধারণ একটি সমস্যা। ভুল ধারণা ও সামাজিক সংকোচের কারণে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ায় সহজ রোগ জটিল আকার ধারণ করে এ বিষয়েই বেশি সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তারা। 

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর শ্যামলী অ্যালায়েন্স হসপিটালে এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ল্যাপারোস্কপিক, কলোরেক্টাল ও পেলভিক ফ্লোর সার্জন ডা. ইসমাত জাহান লিমা, অধ্যাপক ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম, এবং ডা. মোহা. মেজবাহুল বাহার। বক্তারা বলেন, আঁশযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত ব্যায়াম এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণের মতো সাধারণ অভ্যাসই পাইলস প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক আকরাম খান, মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্য জান্নাতুল ফেরদাউস সুমনা, বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দিলারা জামান, এবং অভিনেতা আব্দুন নূর সজল। এছাড়া অংশ নেন দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. রাশিদুল হাসান, অধ্যাপক ডা. এস. এম. আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান, ডা. বিলকিস মাহমুদা এবং অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রহমানসহ আরও অনেকে।

তারকারা বলেন, মানুষ প্রায়ই অস্বস্তি ও লজ্জার কারণে চিকিৎসা নিতে পিছিয়ে যায়। এ ভুল ধারণা দূর করতে সামাজিক সচেতনতা জরুরি। অ্যালায়েন্স হসপিটালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের অ্যালায়েন্স কলোরেক্টাল ও বায়োফিডব্যাক সেন্টার দেশে প্রথমবারের মতো ৩৬০ ডিগ্রি সমন্বিত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে, যেখানে পুরুষ ও নারী—উভয় চিকিৎসকই একই ছাদের নিচে বিশেষায়িত সেবা প্রদান করেন। নারীদের সুবিধার জন্য মহিলা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যথামুক্ত কলোনোস্কপি ও এন্ডোস্কপি সেবা চালু আছে। পাশাপাশি, পেলভিক ফ্লোর সমস্যার আধুনিক চিকিৎসা হিসেবে এ সেন্টারই দেশে একমাত্র বায়োফিডব্যাক সাপোর্ট দিচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাইলসের প্রাথমিক পর্যায়ে অপারেশন ছাড়াই চিকিৎসা সম্ভব। তাই রোগটি গোপন রেখে নিজের কষ্ট বাড়ানোর চেয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তারা।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে অ্যালায়েন্স হসপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, মানুষ যেন জানে পাইলস প্রতিরোধযোগ্য, চিকিৎসাযোগ্য এবং একেবারেই লজ্জার বিষয় নয়। ভবিষ্যতেও আমরা আরও উন্নত প্রযুক্তি ও মানবিক সেবার মাধ্যমে এগিয়ে যাব।

ইত্তেফাক/এএইচপি