হামলা অব্যাহত থাকলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো: ডাকসুর জিএস

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবার ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোটার ও সমর্থকদের ওপর নির্বাচনী সহিংসতা ও হামলা অব্যাহত থাকলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলে জানিয়েছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। 

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি)  বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর নেতারা সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানান এবং প্রতিটি হামলা ও খুনের বিচার দাবি করেন।

ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, নির্বাচনের পর মূলত দুই ধরনের সহিংসতা ঘটছে। এক দিকে বিএনপি প্রার্থী পরাজয়ের দায় অন্য প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ওপর চাপিয়ে হামলা চালাচ্ছে। অন্য দিকে যেখানে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন সেখানে জামায়াত ও এনসিপি প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীরাও এসব সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এমনকি নয় বছরের শিশুও হামলার কবলে পড়েছে।

ফরহাদ অভিযোগ করেন, এই সহিংসতার ঘটনায় দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জোটের নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও আক্রমণের রাজনীতি পুনরায় চালু করা চলবে না।

তিনি বলেন, আমরা নতুন করে সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চাই না এবং জুলাই আন্দোলনের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা যেন নষ্ট না হয়। হামলা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে এবং এটি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রত্যাশার প্রতিফলন। এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে গণভোটের ফল বাস্তবায়ন করতে হবে। 

তিনি জানান, নির্বাচন পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার নথিপত্র সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং গণমাধ্যমকে দেওয়া হবে।

সাদিক কায়েম শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হুমকিদাতা ও সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আপনারা কাউকে ভয় পাবেন না। কেউ যদি হুমকি দেয়, আমাদের জানাবেন। আমরা দেশের আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

 

 
ইত্তেফাক/এসজেএস