মেয়াদ পেরোলেও শেষ হয়নি ভবন নির্মাণ, খোলা মাঠে পাঠদান

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:২২

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ১৩নং চেচিয়াবাধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের খোলা মাঠ ও বারান্দায় পাঠদান চলছে। রোদ ও গরমের মধ্যে পাঠদান চালাতে গিয়ে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ মোট ছয়জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ব্যবহারযোগ্য কক্ষ আছে মাত্র তিনটি। এর মধ্যে একটি শিক্ষকরা ব্যবহার করেন। ফলে বাকি দুটি কক্ষে ভাগ করে একাধিক শ্রেণির ক্লাস নিতে হচ্ছে। কক্ষ সংকটের কারণে অনেক সময় বারান্দা ও বিদ্যালয় মাঠেই পাঠদান পরিচালনা করতে হয়।

উপজেলা শিক্ষা অফিস জানায়, এলজিইডির অর্থায়নে ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর বাস্তবায়নে ২০২৩ সালের আগস্টে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রায় ৭১ লাখ টাকার এ প্রকল্প ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তিনতলা ভিত্তি বিশিষ্ট ভবনের প্রথম ধাপের কাজ পায় তারাকান্দির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মালেকা এন্টারপ্রাইজ। 

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণিকক্ষ কম থাকায় অনেক সময় তাদের মাঠে বা বারান্দায় বসে ক্লাস করতে হয়। রোদে গরমে কষ্ট হয়, আবার কখনও বেশি রোদ উঠলে অন্য শ্রেণির সঙ্গে গাদাগাদি করে বসতে হয়। এতে ঠিকমতো পড়াশোনা করা সম্ভব হয় না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আকলিমা খাতুন বলেন, নতুন ভবনের জন্য পুরোনো কক্ষ ভেঙে ফেলায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা স্বস্তি পাবেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মালেকা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী লিটন হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। মাঝখানে কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল, তবে দ্রুত কাজ শেষ করে ভবন হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া তমাল জানান, ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস