জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠনের দাবি কেন উপেক্ষিত?

শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সংকট সত্ত্বেও নীরব শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক সমাজ

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ২০:৫৭

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকটের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। শিক্ষার মান, পাঠ্যক্রমের ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নীতিনির্ধারণে সুসংহত পরিকল্পনার অভাব—এসব সমস্যা নিয়মিত আলোচনায় এলেও একটি কার্যকর জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠনের দাবি এখনো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী শিক্ষা কমিশন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সমস্যা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের রূপরেখা প্রণয়ন করতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে এমন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবু প্রশ্ন জাগে-এত গুরুত্বপূর্ণ দাবিটি কেন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নেই? এর উত্তর অনেকাংশেই সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নীরবতা। শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জোরালো অবস্থান নেননি। গণমাধ্যমেও বিষয়টি যথেষ্ট স্থান পাচ্ছে না। ফলে নীতিনির্ধারণে তা প্রভাব ফেলতে পারছে না।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শিক্ষা একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু যদি সমাজের অগ্রগণ্য অংশের উদ্যোগ ও দাবিকে শক্তভাবে উচ্চারণ না করা হয়, তবে এ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের পথ দীর্ঘ ও কঠিন হয়ে যাবে।

শিক্ষা সংস্কারের ক্ষেত্রে নীরবতা শুধু অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং জাতির ভবিষ্যতকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তাই এই দাবি কেবল প্রশাসনিক নয়-এটি একটি জাতীয় জরুরি কর্মসূচি।

লেখক: সম্পাদক, এডুকেশন ওয়াচ, ঢাকা ও পরিচালক, সময়ের সাথে, এটিএন বাংলা

ইত্তেফাক/এমএএম