মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত মার্চ মাসে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য ২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা।
শুক্রবার প্রকাশিত সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বিশ্বব্যাপী খাদ্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। শস্য, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্যতেল এবং চিনি—সব প্রধান খাদ্যপণ্যের দামই এ সময় বেড়েছে।
এফএও’র খাদ্যমূল্য সূচক এক বছর আগের তুলনায় ১ দশমিক ২ পয়েন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ বেশি রয়েছে।
মাসিক হিসাবে শস্যের মূল্যসূচক ১.৫ শতাংশ বেড়ে ১১০.৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ০.৬ শতাংশ বেশি। ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক মার্চে ৫.১ শতাংশ বেড়ে ১৮৩.১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা টানা তৃতীয় মাসের মতো ঊর্ধ্বমুখী এবং বছরে এ খাতে দাম বেড়েছে ১৩.২ শতাংশ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েলের দাম ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এটি সয়াবিন তেলের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এর পেছনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বড় ভূমিকা রেখেছে।
মাংসের মূল্যসূচক ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১ শতাংশ বেড়ে ১২৭.৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক মাসিক হিসাবে ১.২ শতাংশ বাড়লেও গত বছরের তুলনায় এখনো ১৮.৭ শতাংশ কম রয়েছে।
এফএও আরও জানায়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চিনি উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে। বিশ্বের শীর্ষ চিনি রপ্তানিকারক দেশ ব্রাজিল বেশি আখ ইথানল উৎপাদনে ব্যবহার করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে চিনির দামে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক চিনি বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে, যা বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি করছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

