জ্বালানি তেল নিয়ে অযথা আতঙ্কে কেনাকাটা (প্যানিক বায়িং) চলতে থাকলে দেশে সংকট তৈরি হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, একই বাইক বারবার যাচ্ছে, তেল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপচে পড়ছে, এরকম নানান ঘটনা তো আসলে আছে। আমি আবারও সবার প্রতি আহ্বান জানাব, আমাদের সংকট আছে কিন্তু আমরা যদি এ ধরনের ‘প্যানিক বায়িং’ করতে থাকি, তাহলে এটি সংকটে রূপ নেবে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে এর প্রভাব পড়তে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও সামগ্রিক অবস্থা অনিশ্চিত।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা অব্যাহত থাকে তাহলে দীর্ঘমেয়াদে ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। যদিও এপ্রিল মাসে দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে, পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে ভবিষ্যতে সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। আমি আবারও বলছি, প্রয়োজন হতে পারে; মানে এটি হবেই, এমন নয়।
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশে টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। কিছু শিশু টিকার আওতার বাইরে থাকায় বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ তিনি বলেন, দেশের একটি অংশের শিশু টিকার কাভারেজের আওতায় ছিল না। আমরা আবারও বলতে চাই, এটি পূর্বের একটি ব্যর্থতার ফল। তা সত্ত্বেও শিশুদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।
চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও হাসপাতালগুলো সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে একসঙ্গে অনেক রোগীর গুরুতর সেবা প্রয়োজন হলে চাপ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্য খাতে সম্ভাব্য ব্যর্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

