সু চির সাজার মেয়াদ কমিয়েছে মিয়ানমার, ক্ষমা পেয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টও

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৪

মিয়ানমারে কারাবন্দী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সাজার মেয়াদ কমিয়েছে দেশটির সরকার। সেইসঙ্গে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর আটক সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকেও ক্ষমা করা হয়েছে বলে প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে। 

জানা গেছে, সু চির বয়স বর্তমানে ৮০ বছর। উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ভাঙার মতো একাধিক অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী এ নেত্রীর সমর্থকরা।

এই বিষয়ে সুচির আইনজীবী আজ জানান, মিয়ানমার সরকার তার মক্কেলের সাজার মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমিয়েছে। তবে সু চি তার বাকি সাজা গৃহবন্দী অবস্থায় ভোগ করতে পারবেন কি না, সেই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভি জানিয়েছে, মিন অং হ্লাইং ৪,৩৩৫ জন বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমা অনুমোদন করেছেন। প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে দেয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, ‘মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপরাধীদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।’ 
 
তবে এই বার্তায় সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সব অপরাধীই এই সুবিধাটি পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আরেক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট হ্লাইং উইন মিন্টকেও ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ এমআরটিভি জানিয়েছে, ‘নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে উইন মিন্টকে ক্ষমা করা হয়েছে এবং তার অবশিষ্ট সাজার মেয়াদ কমানো হয়েছে।’
 

সাধারণত প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে স্বাধীনতা দিবস এবং এপ্রিলে নববর্ষ উপলক্ষে বন্দীদের জন্য এ ধরনের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়ে থাকে মিয়ানমারে।

এদিকে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সেনা-সমর্থিত সরকারের এক মুখপাত্রের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এর আগে, ২০২১ সালে মিন অং হ্লাইং এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিরতায় পড়ে দেশটি।

সেই সময় থেকে মিন অং হ্লাইং জান্তা সরকারকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। গত ৩ এপ্রিল দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। তবে সেই ওই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না বলে মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

ইত্তেফাক/এনটিএম