ভারী বর্ষণের ফলে কুমিল্লা নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ঈশ্বর পাঠশালা কেন্দ্রের কয়েকটি কক্ষে পানি উঠে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে বোর্ড কর্তৃপক্ষ ওই কেন্দ্রের কয়েকটি কক্ষ স্থানান্তর করেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক রুনা নাছরীন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে অনুসারে, ওই কেন্দ্রের পুরাতন ভবনের নিচতলার ১০১-১০৪ নম্বর কক্ষের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের আগামী পরীক্ষাগুলো নতুন ভবনের ১০১, ১০২, ৫০৩, ৬০১, ৬০২ ও ৬০৩ নং কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভারী বর্ষণের কারণে ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চবিদ্যালয়ের নিচতলার টিনশেড ভবনের কক্ষে প্রায় হাঁটু সমান পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তখন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা জুতা খুলে বসার টেবিলের পাশে রাখে। এরপর তারা পানিতে পা রেখে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা দেয়। এ সময় কক্ষ পরিদর্শক (সহকারী শিক্ষিকা) চেয়ারের উপরে জুতা রেখে তার উপর বসে থাকেন। গণমাধ্যমে ওই ছবি প্রকাশিত হওয়ায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নজর কাড়ে।
এদিকে বুধবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান ও কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামছুল ইসলাম ঈশ্বর পাঠশালায় যান। এরপর সেখানে পরিদর্শন শেষে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলন কক্ষে এক যৌথ সভা হয়। এতে ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের ৪টি কক্ষ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা ও কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল হাফিজ।
শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) কবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে একই কেন্দ্রের অন্য ভবনে চারটি কক্ষের পরীক্ষার্থীদের বাকি পরীক্ষাগুলো নেওয়া হবে।

ঝড়ে লন্ডভন্ড কুমিল্লা, বিকল ৩৫ ট্রান্সফরমার