সিরাজগঞ্জ

শ্রেণিকক্ষসংকটে বারান্দায় চলছে পাঠদান

আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ২১:৫৫

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চণ্ডিপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষসংকটে বারান্দায় চলছে পাঠদান। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর না থাকায় মেঝেতে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। ২০০৬ সালে নির্মাণাধীন একটি ভবনের তিনটি কক্ষে চলছে প্রাক্ প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির কার্যক্রম।

পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষটিও শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একদিকে দাপ্তরিক কাজ চলে, তার ঠিক পাশেই চলে শিশুদের পাঠদান। এতে কোনো পক্ষই কাজে মনোযোগ দিতে পারছে না। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১২৩ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ছয় জন। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

সহকারী শিক্ষক হামিদা খাতুন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টিতে তিনটি কক্ষ। শ্রেণিকক্ষের অভাবে দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের বারান্দা ও অফিস কক্ষে পাঠদান করাতে হচ্ছে। ফলে পাঠদানে ছাত্ররা অমনোযোগী থাকে। ক্লাসে শিক্ষকরাও বসে থাকেন আবার শিক্ষার্থীরাও বসে থাকে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভোগান্তি হচ্ছে।

সহকারী শিক্ষক ফাতেমা খাতুন বলেন, শ্রেণিকক্ষের সংকটের জন্য বারান্দায় ক্লাস করাতে হচ্ছে। এতে কষ্ট হচ্ছে। সরকার যদি বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে চলনবিল অধ্যুষিত এই অঞ্চলের শিশুরা ভালোভাবে পাঠদান করতে পারত।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবু বককার মিয়া জানান, ১৯৮৯ সালে উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নে চণ্ডিপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালে বিদ্যালয়ে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১২৩ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। ছয় জন শিক্ষকের মধ্যে এক জন চিকিৎসার জন্য ছুটিতে আছেন। একজন ডেপুটেশনে পার্শ্ববর্তী একটি বিদ্যালয়ে আছেন। চার জন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন।

বিদ্যালয়টি শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় ক্লাস নিতে হয় অফিস-কক্ষে। এছাড়া শ্রেণিকক্ষের অভাবে বারান্দায় করানো হচ্ছে পাঠদান। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় দুজনের বেঞ্চে বসতে হচ্ছে চার জন শিক্ষার্থীকে। শব্দের কারণে তারা পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারছেন না। যে কারণে প্রতিনিয়ত পাঠ্য কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। 

উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।

ইত্তেফাক/এসএএস