স্ত্রীর সামনে বকাঝকা, অপমান সইতে না পেরে মা-বাবাকে হত্যা করলো যুবক!

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ০৩:২৯

ভারতের মহারাষ্ট্রে স্ত্রীর সামনে বাবা-মা বকাঝকা ও অপমান করায় ক্ষোভের বশে তাদের নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৫ মে) মহারাষ্ট্রের ধুলে জেলার শিরপুরের মহাবীর সোসাইটিতে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত দম্পতি হলেন ইন্দরম মাহাতো ও রঞ্জুদেবী মাহাতো। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে চন্দনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত দম্পতি সম্প্রতি তাদের মেয়ের বিয়েতে অংশ নেওয়ার পর বাড়িতে ফিরেছিলেন। বাড়িতে পৌঁছানোর পর কোনো একটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে তারা ছেলে চন্দনকে চরম বকাঝকা করেন। অভিযোগ রয়েছে, চন্দনের স্ত্রীর সামনেই তার সম্পর্কে বেশ কিছু অপমানজনক ও কটু মন্তব্য করেন বাবা-মা। নিজের স্ত্রীর সামনে এমন অপমান সহ্য করতে না পেরে চন্দন ক্ষোভে ও রাগে অন্ধ হয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি ঘর থেকে মশলা পেষার ভারী শিল নিয়ে এসে বাবা ও মায়ের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। শিলের উপর্যুপরি আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাণ হারান ওই প্রবীণ দম্পতি।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত চন্দন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ঘরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ছুটে আসা প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে চন্দনকে আটকে ফেলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানায় খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তমাখা মরদেহের পাশ থেকে অভিযুক্ত চন্দনকে গ্রেপ্তার করে। ধুলে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই জোড়া খুনের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পারিবারিক এই নৃশংসতার পেছনে অন্য কোনো গোপন কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএম