বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুর্নীতি–লুটপাট বন্ধ না করে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার: গোলাম পরওয়ার

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০১:২৪

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলমান তীব্র সংকট, সিস্টেম লস এবং ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট বন্ধ না করে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পেছনে সরকারের নিজস্ব সিন্ডিকেট সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ করেন। জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে দেশব্যাপী জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়।

জামায়াত নেতা সরকারের নীতি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘বিদ্যুৎমন্ত্রী দেশের মানুষকে স্পষ্ট কথা দিয়েছিলেন যে আগামী দুই বছরের মধ্যে সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না। অথচ সেই কথার তিন মাস যেতে না যেতেই আবারও দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর চরম ভোগান্তি চাপিয়ে দেওয়া হলো। এইভাবে সামনের দিনগুলোতে জনগণের রক্ত চুষে খাওয়ার যে রূপরেখা সরকার নিয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ আজ গভীর আতঙ্কিত।’

সমাবেশে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি কমিটির প্রস্তাবের চেয়েও বেশি মাত্রায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পেছনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণ পাওয়ার শর্তকে দায়ী করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর তীব্র সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু সাহেব কেবল আইএমএফের কঠিন শর্ত পূরণ করার জন্য একের পর এক গোপন বৈঠক করছেন। আইএমএফ শর্ত দিয়েছে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে, আর উনি চোখ বন্ধ করে তা বাস্তবায়ন করছেন। বিশ্বব্যাংক আর আইএমএফের কাছে বাংলাদেশের মানুষ তো কোনো দাসখত দেয়নি, আমরা তো তাদের গোলাম না! তাহলে কেন তাদের অন্যায্য কথায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের দুঃখ, কষ্ট ও দুর্ভোগকে প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে?’

বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি দেশের অন্যতম শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা। তিনি দাবি করেন, ‘ইসলামী ব্যাংক আগে এস আলম গ্রুপ সুপরিকল্পিতভাবে লুটপাট করে খেয়েছে। আর এখন বর্তমান সরকার আইনি মারপ্যাঁচে নতুন চেয়ারম্যান বসিয়ে তাদের ঘাড়ের ওপর উঠে নতুন করে লুটপাট করতে চায়। প্রশাসনের পুরো মনোযোগ এখন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখলের দিকে, সাধারণ জনগণের হাহাকারের দিকে তাদের বিন্দুমাত্র কোনো মনোযোগ নেই।’ বর্তমান প্রশাসনের প্রতি তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘একটি সরকারের জন্য পাঁচ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। অথচ আপনাদের মাত্র তিন মাসেই দেশের যে নড়বড়ে অবস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে মন্ত্রীরা যেখানেই যাচ্ছেন সাধারণ জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিয়ে “ভুয়া, ভুয়া” বলে স্লোগান দিচ্ছে। তিন মাস পার হতে না হতেই যদি পাবলিক আপনাদের ভুয়া বলে প্রত্যাখ্যান করা শুরু করে, তবে সামনের দিনগুলোতে আপনাদের জন্য কী ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে—তার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুত থাকুন।’

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় এই সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, হেলাল উদ্দিন এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাতসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে একটি বিশাল ও সুশৃঙ্খল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পুরানা পল্টন মোড়, বিজয়নগর ও কাকরাইলসহ রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

ইত্তেফাক/এএম