ফুলবাড়ীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ১৬:১৭

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় কালবৈশাখীর ঝড়ের তাণ্ডবে কয়েকটি এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ঝড় চলাকালে গাছ উপড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে দুটি বাড়ি। তাছাড়া ঝড়-বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়া ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালাতাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরিদর্শনে করেন ইউপি চেয়ারম্যান হাছেন আলী ও ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মহির উদ্দিন।

এছাড়া পরিদর্শনে আসেন সাবেক চেয়ারম্যান ও নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসাব্বের আলী মুসা ও নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা সামচুল হুদ বাবুল মাস্টার। পরিদর্শনে এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি সমবেদনা জানিয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে দিকে আকস্মিক ঝড় শুরু হলে এনামুল হক ও এমদাদুল হকের বাড়ির পাশের প্রতিবেশির একটি বিশাল আকৃতির শিমুল গাছ দুমড়ে-মুচড়ে উপড়ে গিয়ে তার বসতবাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বাড়ির বারান্দাসহ চারটি কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরের টিন, কাঠামো ও আসবাবপত্রেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের তীব্রতা এতটাই ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই গাছটি উপড়ে বাড়ির ওপর পড়ে যায়। বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। গাছটি বাড়ির ওপর ভেঙে পড়ার সময় পরিবারের একজন সদস্য সামান্য আহত হলেও তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক ইনামুল হক ও এমদাদুল হক বলেন, হঠাৎ ভয়াবহ ঝড় শুরু হলে আমাদের পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিশাল আকৃতির শিমুল গাছটি বাড়ির ওপর ভেঙে পড়ে। এতে আমাদের বসতঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া আমাদের পরিবারের সদস্যরা বড় ধরণের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছেন। শুধু আমাদের একজন  আহত হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। এখন কিছুটা সুস্থ। এখন পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছি।

তারা আরও জানান, শুক্রবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজ দৌল্লা পরিদর্শনে এসে শুকনো খাবার দেন। এ সময় তিনি বারান্দাসহ চারটি ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষ দেখেন। আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন।

তাছাড়া ঘটনার পরপর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপচে পড়েছে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে প্রায় ১৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। শুক্রবার বেলা ১টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। টানা তাপপ্রবাহের পর হওয়া এই ঝড়-বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়া ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসা জানান, ঝড়ের খবর পেয়ে রাতেই তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘অল্প সময়ের ভয়াবহ এই ঝড়ে পরিবারটি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সৌভাগ্যবশত পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজ উজ-দৌল্লা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি পরিদর্শন করে পরিবারের মাঝে ইতোমধ্যে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঝড়ের সময় বাড়ির পাশের প্রতিবেশীর একটি বিশাল আকৃতির শিমুল গাছ উপড়ে পড়ে বসতবাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আগামী রবিবার ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।’

ইত্তেফাক/এপি