৩১ বছরের পুরোনো স্মৃতি মনে করালেন তাসকিন

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ১৮:১৯

তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বলটা সিমে পড়ে সুইং করলো ভেতরের দিকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ম্যাথু শর্ট আবিষ্কার করলেন, বলটা ভেঙে দিয়েছে তার স্টাম্প।

প্রথম বলেই উইকেট পাওয়ার পর তাসকিনের এই উদ্‌যাপন মনে করিয়ে দিল আরও দুজনকে। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে এই কীর্তিটা এর আগেও করে দেখিয়েছেন দুজন। সাইফুল ইসলাম ও সৈয়দ রাসেলের পর আবারও ইনিংসের প্রথম বলে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে উইকেট নিলেন তাসকিন।

সাইফুল ইসলামের কীর্তিটা এই লেখাটা যারা পড়ছেন, তাদের অনেকেই নাও দেখতে পারেন। ১৯৯৫ সালে শারজায় পেপসি এশিয়া কাপে টসে জিতে বোলিং নিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক আকরাম খান। বল তুলে দিলেন পেসার সাইফুল ইসলামের হাতে। প্রথম বলেই অশঙ্কা গুরুসিংহা ক্যাচ দিলেন আমিনুল ইসলামকে, স্বপ্নের মতো শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের।

সেই ম্যাচে সাইফুল পরে আরও তিনটি উইকেট নিয়েছিলেন, শেষ করেছিলেন ৩৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে। নিজের তো বটেই, সে সময় বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সেরা বোলিংয়ের কীর্তিও ছিল সেটি।

নয় বছর পর সেটি ভেঙে দিয়েছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। সাইফুলের এই কীর্তির পরও ম্যাচটা অবশ্য জিততে পারেনি বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার ২৩৩ রানের জবাবে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ১২৬ রানে।

সাইফুলের সেই স্মৃতি ২০০৬ সালে আবার কেনিয়ায় ফিরিয়ে আনেন সৈয়দ রাসেল। এবার প্রতিপক্ষ কেনিয়া, ভেন্যু নাইরোবির জিমখানা মাঠ। প্রথম বলেই কেনেডি ওটিয়েনোর প্যাডে লাগল বল, রাসেলের আবেদনে আঙুল তুলে দিলেন আম্পায়ার।

অবশ্য সেই ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত স্মরণীয় হয়ে থেকেছে আরও একটি কারণে। এই ম্যাচেই ২৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সেরা বোলিংয়ের এই কীর্তি টিকে আছে এখনো। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে না পারলেও সেই ম্যাচটা জিতেছিল বাংলাদেশ, কেনিয়ার ১১৮ রান টপকে গিয়েছিল ৪ উইকেট হারিয়ে।

প্রশ্ন হতে পারে, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে এই কীর্তি বাংলাদেশের কারও আছে কি না? টেস্টে মাশরাফি বিন মুর্তজার বল ছেড়ে দিয়ে ভারত ওপেনার ওয়াসিম জাফরের সেই বোল্ড অনেকের চোখে লেগে থাকার কথা। সেটারও ১৯ বছর হয়ে গেছে।

টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য এই কীর্তি বাংলাদেশের বেশ কয়েকজনই করেছেন। মাশরাফি বিন মুর্তজা একাই সেটি করেছেন দুবার। এরপর করেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোসাদ্দেক হোসেন ও তানজিম হাসান।

 
ইত্তেফাক/এসএইচ