আমার দল ক্ষমতায় তাই মারধর করেছি: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার স্বীকারোক্তি

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৪৩

বগুড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক যুবদল নেতাকে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। আহত ওই নেতা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে বগুড়া শহরের নিশিন্দারা উত্তরপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।

ঘটনায় আহত হয়েছেন বগুড়া মহানগর যুবদলের ৫নং ওয়ার্ডের সভাপতি আইনুল শেখ। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বাপ্পী এবং তার সহযোগীরা আইনুল শেখের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে লোহার পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিশিন্দারা উত্তরপাড়া এলাকার জায়েদ এবং একই এলাকার নুরুন্নাহার বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে বগুড়া সিটি করপোরেশনে অভিযোগ করা হয়। পরে ৯ জুন সিটি করপোরেশন নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেয় এবং ২৪ জুন উভয় পক্ষকে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে নোটিশ দেয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের নির্দেশ উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকেলে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান আইনুল শেখ। এ সময় শাহ আলম বাপ্পী ও তার লোকজন তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।

আহত আইনুল শেখ দাবি করেন, এর আগেও পারিবারিক বিরোধের জেরে তার মা নুরুন্নাহার বেগমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের লোকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তার ওপর আবারও হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাহ আলম বাপ্পী মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, জমিটি নিজের দাবি করে তিনি সেখানে বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। তার ভাষায়, “আমার দল ক্ষমতায়, আমার জমিতে বাড়ি নির্মাণ করছি। বাধা দিতে আসায় তাকে মারধর করেছি।” তিনি আরও জানান, ২৪ জুন সিটি করপোরেশনের শুনানির পর বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

এদিকে ঘটনার পর বগুড়ার উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তার আগেই পরিস্থিতি শেষ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে আহত পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

ইত্তেফাক/এসএ