যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে জিপিএস, নজরদারি ও স্যাটেলাইট বিধ্বংসী প্রযুক্তিতে এগিয়ে চীন

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ২০:৪৬

মহাকাশ প্রযুক্তির তিনটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে জিপিএসের মতো দিকনির্ণয় ব্যবস্থা, আকাশ থেকে উন্নত নজরদারি (রিকনেসান্স) এবং কক্ষপথে স্যাটেলাইট ধ্বংস করার সক্ষমতা। ওয়াশিংটনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

রোববার (২৮ জুন)  সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।

ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ফাউন্ডেশন (আইটিআইএফ) নামের ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী সরকারি সমর্থনের কারণে চীন দ্রুত একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক মহাকাশ খাত গড়ে তুলেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উদ্ভাবনের ব্যবধান দ্রুত কমে আসছে।

গত ৮ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি শিগগিরই জোরালো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতির নেতৃত্ব চলে যাবে চীনের হাতে। আগামী দশ বছরের মধ্যে এই অর্থনীতির আকার ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কোন ক্ষেত্রে কে এগিয়ে

প্রতিবেদনে মহাকাশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাতের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে:

পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের ব্রডব্যান্ড: এখনো যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট আধিপত্য। স্পেসএক্সের স্টারলিংক এবং অ্যামাজনের প্রজেক্ট কুইপার চীনের কিয়ানফান ও গুয়াওয়াংয়ের চেয়ে এগিয়ে আছে। চীনের রকেট উৎক্ষেপণ সীমাবদ্ধতা ও পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেটের অভাব এখানে বড় বাধা।
  
পজিশনিং, নেভিগেশন ও টাইমিং: চীনের বেইদু নেভিগেশন সিস্টেম বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত হয়েছে। স্যাটেলাইটের বিশাল সংখ্যা ও আন্তর্জাতিক ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে এ ক্ষেত্রে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেছে।

রিমোট সেন্সিং ও স্যাটেলাইট ইমেজিং: এ খাতে চীন এগিয়ে। গাওফেন ও জিলিন-১ এর মতো সরকারি-বেসরকারি স্যাটেলাইট বহরের সমন্বয়ে বিশ্বের অন্যতম বড় ইমেজিং নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।

মহাকাশ স্টেশন: দুই দেশের সক্ষমতা প্রায় সমান। যুক্তরাষ্ট্রের আইএসএস-এর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার বিপরীতে চীন দ্রুত তিয়ানগং স্টেশন সম্প্রসারিত করছে।

স্যাটেলাইট বিধ্বংসী (কাউন্টারস্পেস) প্রযুক্তি: এখানে চীন স্পষ্ট নেতৃত্বে। কাইনেটিক ইন্টারসেপ্টর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং ডাইরেক্টেড এনার্জি অস্ত্রে চীনের বিনিয়োগ ব্যাপক। এমনকি কক্ষপথে ‘ডগফাইটিং’ সক্ষম স্যাটেলাইট তৈরিতেও চীন অনেক দূর এগিয়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যেও উঠে এসেছে।

পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট: এখনো যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত আধিপত্য। স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯-এর সফল রিইউজেবল প্রযুক্তি চীন এখনো পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারেনি।

দুই দেশের ভিন্ন পথ

যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের পেছনে রয়েছে নাসা ও বেসরকারি খাতের (বিশেষ করে স্পেসএক্স) ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা। অন্যদিকে চীন ‘হোল-অফ-সোসাইটি’ অ্যাপ্রোচ ও সামরিক-বেসামরিক ফিউশন নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ ও জনবল একত্রিত করছে।

২০১৪ সালে চীন মহাকাশ খাতের কিছু অংশ বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। এরপর থেকে দেশটিতে ৫০০-এর বেশি মহাকাশ কোম্পানি গড়ে উঠেছে। ল্যান্ডস্পেস, গ্যালাকটিক এনার্জি, আইস্পেসের মতো কোম্পানিগুলো দ্রুত এগোচ্ছে।

প্রতিবেদনের লেখক এলিস শেরার বলেন, চীনের উৎপাদন সক্ষমতা অসাধারণ। কিন্তু পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেটে পুরোপুরি সফল না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ ছাড়িয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে কঠিন।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, চীন যদি মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে, তাহলে আমেরিকার অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

 

ইত্তেফাক/এবিএস