মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের দুষলেন এরদোগান

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৩

তুরস্কের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিরোধী দলের ওপর চলমান দমনপীড়ন নিয়ে ন্যাটোর পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে। আগামী ৭ ও ৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে পশ্চিমা দেশগুলো এখন আইনি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চেয়ে তুরস্কের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক দৃঢ় করতেই বেশি আগ্রহী।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথমবারের মতো তুরস্ক সফরে আসছেন এবং সম্মেলনের পাশাপাশি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেবেন। 

পশ্চিমা ও তুর্কি কূটনীতিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই শীর্ষ সম্মেলনে তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির বা সিএইচপি-এর ওপর সরকারের নজিরবিহীন আইনি চাপ কিংবা ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগ্লুর কারাদণ্ডের মতো সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্ব নেতারা কোনো ধরনের জনসমক্ষে আলোচনা বা সমালোচনা করবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে বিশেষ করে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকে ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঙ্কারার গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী এবং ড্রোনের মতো বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে তুরস্ককে এখন রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রাচীর হিসেবে দেখছে পশ্চিমা বিশ্ব।

পোল্যান্ডভিত্তিক সেন্টার ফর ইস্টার্ন স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ কারোল ওয়াসিলেভস্কি জানিয়েছেন যে পশ্চিমা মিত্ররা এখন এক প্রকার মূল্যবোধের রাজনীতি ত্যাগ করে কেবল পারস্পরিক স্বার্থ ও লেনদেনের সম্পর্ককেই প্রাধান্য দিচ্ছে।

এই নীরবতা তুরস্কের স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং ন্যাটোর মূল ভিত্তি গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে অবজ্ঞা করছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। আঙ্কারায় নিযুক্ত আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রদূত ডেভিড স্যাটারফিল্ড রয়টার্সকে বলেন যে তুরস্কে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এই অবক্ষয় নিয়ে পশ্চিমাদের নিয়মিত কথা বলা উচিত, কারণ সাধারণ তুর্কি নাগরিকদের এটি জানা দরকার যে অন্যরা তাদের শাসনব্যবস্থা নিয়ে কী ভাবছে। 

উল্লেখ্য যে ২০২১ সালে সমাজকর্মী ওসমান কাভালার মুক্তির দাবিতে স্যাটারফিল্ডসহ ১০ জন পশ্চিমা রাষ্ট্রদূত যৌথ বিবৃতি দিলে এরদোগান ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বর্তমানে ২৩ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা এরদোগানের একে পার্টি অবশ্য বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে সম্পূর্ণ স্বাধীন বলে দাবি করেছে। তবে আসন্ন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন বা প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা অজুহাতে দুই শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে। 

ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে জানিয়েছেন যে আঙ্কারা সম্মেলনে বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণা করা হবে এবং পশ্চিমা কূটনীতিকদের অনেকেই এখন জনসমক্ষে সমালোচনা না করে ব্যক্তিগতভাবে তুর্কি কর্মকর্তাদের কাছে নিজেদের উদ্বেগ জানানোর পথ বেছে নিয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স

ইত্তেফাক/টিএইচ