হতাশা ও অনিদ্রা থেকেই চীনের বহুতল ভবনে বিমান বিধ্বস্ত করেন পাইলট

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭:৩৪

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে একটি বহুতল ভবনে ছোট বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নতুন তথ্য জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের অনিদ্রা ও মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন পাইলট। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ইচ্ছাকৃতভাবেই তিনি বিমানটি ভবনের সঙ্গে ধাক্কা দেন।

ঘটনায় ৬৬ বছর বয়সী পাইলট লিউ নিহত হন। বিমানটি ভবনে আঘাত হানার পর নিচে পড়ে যায়। এতে আরও ১৩ জন আহত হন।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেইজিংয়ের বাসিন্দা লিউ বিবাহবিচ্ছেদের পর একাই বসবাস করতেন। তদন্তে তার একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে একাধিকবার মৃত্যুর ইচ্ছার কথা লেখা ছিল।

আহতদের মধ্যে একজনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ছোট আকৃতির ওই বিমানটি বিধস্ত হওয়ার পর এটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে চীন সরকার ভিডিওটিতে বিধিনিষেধ দিয়ে দেয়। এতে চীনে থাকা মানুষ আর এটি দেখতে পারছেন না। বেইজিংয়ের মতো জায়গায় বড় ভবনে বিমানের ধাক্কা দেওয়া বিরাট নিরাপত্তা লঙ্ঘন ছিল। এ কারণে চীন সরকার এটি আড়াল করার চেষ্টা করেছে।

যে ভবনে বিমানটি আঘাত হানে সেটি ১০৯ তলা বিশিষ্ট ‘চায়না ঝুন’ নামে পরিচিত। ভবনটি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন লিউ পিঙ্গু এলাকার একটি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেন। প্রথম ফ্লাইটে তার সঙ্গে একজন যাত্রী থাকলেও দ্বিতীয়বার তিনি একাই বিমান চালান। পরে নির্ধারিত রুট থেকে সরে গিয়ে ভবনটির দিকে বিমানটি নিয়ে যান।

ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদারে ছোট বিমান পরিচালনা নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে চীন সরকার। পাশাপাশি তিনটি বিমান সংস্থাকে সাময়িকভাবে ছোট বিমান পরিচালনা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস