ইরানের কেশম দ্বীপের উপকণ্ঠে অন্তত ৬টি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১২

ইরানের কেশম দ্বীপের উপকণ্ঠে অন্তত ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত ৩টা ৩৮ মিনিটের দিকে দ্বীপটির আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দেশটির আধা–সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এ খবর জানিয়েছে।

দ্বীপটি থেকে তাসনিমের সংবাদদাতা জানান, নিরাপত্তা কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ঘটনা নিয়ে এখনো কোনো বিবৃতি দেয়নি। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়েও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কেশম দ্বীপের উপকণ্ঠের কয়েকটি স্থানে হামলা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাসনিমকে জানিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, তিন থেকে পাঁচটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এই তথ্য আনুষ্ঠানিক নয়।

ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহের জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের উপকণ্ঠের একটি স্থানে মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়েছে। তবে এই হামলায় কোনো বেসামরিক মানুষ হতাহত হননি। আবাসিক বা বাণিজ্যিক অবকাঠামোরও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসেও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, নগরীর বিভিন্ন অংশে কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের বরাতে তাসনিম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও সেখানে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত বা মার্কিন যুদ্ধবিমানের হামলার কোনো খবর এখনো পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক দিনগুলোয় বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলা হয়েছে।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর খামির এলাকায় একটি সেতুতে মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত সাতজন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন মেয়ের নাম প্রকাশ করেছে ভারতে ইরানের দূতাবাস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস জানায়, নিহত দুজন মেয়ে হলো—সোগান্দ দার্দমান্দ ও ফাতেমেহ জাহরা আকবরি।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সেতুটিতে হামলা চালানো হয়। সেদিনই মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছিল।

ইরানি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোয় মার্কিন হামলায় ইরানে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০০ জনের বেশি।

ইত্তেফাক/আরএইচ