কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো বিরল সামুদ্রিক ‘ফাইলফিশ’

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ১৭:০০

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ভেসে এসেছে গভীর সমুদ্রে বসবাসকারী বিরল প্রজাতির একটি সামুদ্রিক মাছ। ‘ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট’ বা ‘ফাইলফিশ’ নামে পরিচিত মাছটি রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে কুয়াকাটার চর গঙ্গামতি সৈকতে মৃত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর ছড়িয়ে পড়লে মাছটি দেখতে সেখানে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ ও পর্যটকেরা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল জানান, মোটরসাইকেলে করে চর গঙ্গামতি এলাকায় যাওয়ার সময় সৈকতের বালুচরে অস্বাভাবিক আকৃতির একটি মৃত মাছ দেখতে পান তিনি। তার ধারণা, রাতের জোয়ারের পানিতে গভীর সমুদ্র থেকে মাছটি উপকূলে ভেসে এসেছে।

স্থানীয় পর্যটন ও পরিবেশকর্মী কে এম বাচ্চু বলেন, কুয়াকাটা উপকূলে আগে কখনো এমন মাছ দেখা যায়নি। এটি সম্ভবত গভীর সমুদ্র থেকে স্রোতের টানে উপকূলে চলে এসেছে, যা বেশ ব্যতিক্রমী ঘটনা।

ব্লু-অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে ডাব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান মাছটিকে ‘ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট’ বা ‘ফাইলফিশ’ হিসেবে শনাক্ত করেন। তিনি জানান, এটি গভীর সমুদ্রের বিরল প্রজাতির মাছ। পরিবেশগত পরিবর্তন, ঝড়ো আবহাওয়া, সমুদ্রস্রোতের অস্বাভাবিকতা কিংবা অসুস্থতার কারণে এ ধরনের মাছ কখনো কখনো মৃত অবস্থায় উপকূলে ভেসে আসে। তবে এমন ঘটনা খুবই বিরল।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Aluterus monoceros। চ্যাপ্টা দেহ, মোটা ও খসখসে চামড়ার কারণে এটি ‘লেদারজ্যাকেট’ নামে পরিচিত। মাথার ওপর থাকা সরু কাঁটা এ প্রজাতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সাধারণত গভীর সমুদ্রের প্রবাল ও পাথুরে এলাকায় এদের বিচরণ। শৈবাল, স্পঞ্জ, জেলিফিশ, ছোট ক্রাস্টেশিয়ান, চিংড়ি, শামুকসহ বিভিন্ন তলদেশীয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী এদের প্রধান খাদ্য।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি ফাইলফিশ প্রজাতির মাছ বলেই ধারণা করা হচ্ছে। উপকূলে এ ধরনের বিরল সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে এলে গবেষণা ও সংরক্ষণের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানো প্রয়োজন।

সম্প্রতি কুয়াকাটা উপকূলে একের পর এক বিরল সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণী ভেসে আসার ঘটনা গবেষকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, স্রোতের পরিবর্তন এবং বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা জানতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন।

 
ইত্তেফাক/এমএএম